
র্যাব-৯ ও র্যাব-১১ এর যৌথ অভিযানে সুনামগঞ্জে কিশোরী অপহরণ ও ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামিকে কুমিল্লা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
গ্রেফতারকৃত আসামির নাম মো. হৃদয় (২২)। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর থানার ব্রাহ্মণহাতা গ্রামের আব্দুল আউয়ালের ছেলে।
শনিবার (২০ জুন) সন্ধ্যায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-৯, সিপিসি-৩, সুনামগঞ্জ এবং র্যাব-১১, সিপিসি-২, কুমিল্লার একটি যৌথ আভিযানিক দল কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম মডেল থানাধীন জামকরা সিংগাপুর মার্কেট এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার মামলা নং-৬৩ (তারিখ: ২৬/০৫/২০২৫), নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ এর ৭/৯(১)/৩০ ধারায় দায়েরকৃত মামলার এজাহারনামীয় ১নং পলাতক আসামি মো. হৃদয়কে গ্রেফতার করে।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ভিকটিম সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানাধীন দুর্লভপুর এলাকার বাসিন্দা। ২নং আসামি সৈয়দ আইনুল হক ভিকটিমের আত্মীয় ও প্রতিবেশী। ১নং আসামি মো. হৃদয় ওই ২নং আসামির বাড়িতে থেকে সিএনজি চালাতেন। সেই সুবাদে তিনি প্রায়ই ভিকটিমের বাড়িতে যাতায়াত করতেন এবং ভিকটিমকে বিভিন্নভাবে উত্ত্যক্ত করতেন।
ঘটনাটি ভিকটিম তার মাকে জানালে তিনি ২নং আসামির কাছে বিচার চান। পরে ২নং আসামি ভিকটিমের পরিবারের কাছে মো. হৃদয়ের সঙ্গে বিয়ের প্রস্তাব দেন। তবে ভিকটিম অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তার মা সেই প্রস্তাবে রাজি হননি। এর জের ধরে আসামিরা ভিকটিমকে অপহরণের পরিকল্পনা করে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
ঘটনার দিন ১৩ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখ দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে আসামিরা ভিকটিমের ঘরে প্রবেশ করে তাকে জোরপূর্বক অপহরণ করে ১নং আসামির গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে ভিকটিমকে অজ্ঞাত স্থানে আটকে রেখে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে নির্যাতন করা হয়েছে বলে ভিকটিমের পরিবার ধারণা করে।
এ ঘটনায় ভিকটিমের মা বাদী হয়ে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার পর র্যাব ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করে আসামিকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার একেএম শহীদুল ইসলাম সোহাগ জানান, গ্রেফতারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। পাশাপাশি দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে র্যাবের গোয়েন্দা ও অভিযানিক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
মন্তব্য করুন