
মোংলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আতিকুর রহমানের অসংলগ্ন আচরণের একটি সিসিটিভি ফুটেজ ঘিরে মোংলায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ফুটেজটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় পর্যায়ে বিষয়টি নিয়ে তোলপাড় চলছে।
ফুটেজের প্রতিটি দৃশ্য ওসির বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে দাবি করা হচ্ছে। এ নিয়ে স্থানীয়দের বক্তব্য ও ভিডিও ফুটেজ ঘিরে ওসি এখন একপ্রকার ‘মাইনকা চিপায়’ রয়েছেন বলে আলোচনায় উঠে এসেছে।
রোববার (২১ জুন) মোংলা প্রেস ক্লাবে পৌর বিএনপি ও থানা বিএনপির ব্যানারে ওসির সমর্থনে একটি সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে ওসির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকে ‘অপপ্রচারের নাটক’ বলে দাবি করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু হোসেন পনি বলেন, মাদকবিরোধী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোর অবস্থানের কারণে ওসির বিরুদ্ধে একটি মহল পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন পৌর যুবদলের সদস্য সচিব মো. আবুল কাসেম, পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম নুর জনি, থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মো. পলাশ এবং পৌর মহিলা দলের সভানেত্রী কমলা বেগমসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা। তবে পৌর বিএনপি ও থানা বিএনপির ব্যানারে আয়োজিত ওই সংবাদ সম্মেলনে দলের শীর্ষস্থানীয় কয়েকজন নেতা অনুপস্থিত ছিলেন।
এ বিষয়ে মোংলা পৌর বিএনপির সভাপতি জুলফিকার আলী বলেন, “সংবাদ সম্মেলনটির বিষয়ে আমাদের কোনো সম্মতি ছিল না, তাই আমরা সেখানে উপস্থিত হইনি।”
এর আগে ১৮ জুন ওসির অপসারণের দাবিতে পৌর বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের ব্যানারে একটি মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। সেই কর্মসূচিতেও দলের শীর্ষ নেতাদের অনুপস্থিতি ছিল লক্ষ্যণীয়।
এদিকে ভাইরাল হওয়া সিসিটিভি ফুটেজে ওসির কিছু অসংলগ্ন আচরণের দৃশ্য দেখা গেছে। যদিও ফুটেজে কোনো শব্দ রেকর্ড হয়নি, তবে স্থানীয় দোকানদাররা দাবি করেছেন, ওই সময় ওসি অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করছিলেন। ফুটেজে তাঁকে চায়ের কাপ ছুড়ে মারতে এবং অশোভন অঙ্গভঙ্গি করতেও দেখা যায় বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগগুলো অস্বীকার করে ওসি আতিকুর রহমান বলেন, গভীর রাতে চুরি ও অসামাজিক কার্যকলাপ বন্ধে টহল চলাকালীন তিনি দায়িত্ব পালন করছিলেন। তাঁর দাবি, একটি স্বার্থান্বেষী মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।
এ বিষয়ে বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এবং বাগেরহাট-৩ আসনের সংসদ সদস্য ড. শেখ ফরিদ ইসলাম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি লেখেন, বিষয়টি নিয়ে বিভাগীয় তদন্ত চলছে এবং তদন্ত শেষে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। পাশাপাশি রাজনৈতিক কর্মসূচিতে দলের শীর্ষ নেতাদের অনুপস্থিতি নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন এবং বিষয়টিকে ‘রহস্যজনক’ বলে মন্তব্য করেন।
মন্তব্য করুন