
বিশ্বকাপের মূল পর্বে টানা তৃতীয়বারের মতো খেলতে ব্যর্থ হওয়ার পর নতুন প্রধান কোচ খুঁজছে ইতালি। নতুন কোচ নিয়োগের প্রক্রিয়ায় বিশ্বের অন্যতম সেরা কোচ পেপ গার্দিওলার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল ইতালির ফুটবল ফেডারেশন। তবে ম্যানচেস্টার সিটির দায়িত্ব ছাড়ার পর অন্তত এক বছর ফুটবল থেকে দূরে থাকার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় সেই আলোচনা আর এগোয়নি।
একটি সূত্রের দাবি, ইতালির ফুটবল ফেডারেশনের সঙ্গে গার্দিওলার আলোচনা মাত্র এক মিনিট স্থায়ী হয়েছিল। কারণ, আগামী মে মাসে ম্যানচেস্টার সিটির দায়িত্ব ছাড়ার পর অন্তত এক বছরের বিরতি নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তার।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে আরও তিনটি জাতীয় দল গার্দিওলাকে কোচ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে বলেও জানা গেছে। তবে প্রতিটি প্রস্তাবেই একই জবাব দিয়েছেন স্প্যানিশ এই কোচ—এই মুহূর্তে তিনি বিশ্রামে থাকতে চান। যদিও কয়েকটি দেশ জানিয়েছে, আগামী বছর বড় কোনো আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট না থাকায় তারা গার্দিওলার জন্য অপেক্ষা করতেও প্রস্তুত।
কোন কোন দেশ গার্দিওলার সঙ্গে যোগাযোগ করেছে, তা নিশ্চিত করা না গেলেও ধারণা করা হচ্ছে, বিশ্বকাপের শেষ বত্রিশে মরক্কোর কাছে হেরে বিদায় নেওয়ার পর নেদারল্যান্ডসও তাকে কোচ হিসেবে চেয়েছিল।
ইংল্যান্ড জাতীয় দলের কোচের পদেও গার্দিওলার নাম একাধিকবার আলোচনায় এসেছে। তবে দেশটির ফুটবল সংস্থা জানিয়েছে, বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার কাছে হারের পরও তারা বর্তমান কোচ টমাস টুখেলের ওপরই আস্থা রাখছে। ভবিষ্যতে অবশ্য এই দায়িত্ব নেওয়ার ব্যাপারে গার্দিওলা আগ্রহী হতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে।
এদিকে, এপ্রিলে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের প্লে-অফে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার কাছে হারের পর জেন্নারো গাত্তুসো পদত্যাগ করায় নতুন কোচ খোঁজার প্রক্রিয়া শুরু করে ইতালি। তবে নানা কারণে সেই প্রক্রিয়া বিলম্বিত হয়েছে।
প্রথমে নতুন সভাপতি নির্বাচন করতে হয় ইতালির ফুটবল ফেডারেশনকে। ২২ জুন জিওভান্নি মালাগো সভাপতি নির্বাচিত হন। এরপর জাতীয় দলের কারিগরি পরিচালক হিসেবে নিয়োগ পান সাবেক তারকা ফুটবলার পাওলো মালদিনি। পাশাপাশি ব্রাজিলের সাবেক ফুটবলার লিওনার্দোকে পরামর্শক হিসেবে যুক্ত করা হয়েছে নতুন কোচ নিয়োগের কাজে সহায়তা করার জন্য।
গার্দিওলার পাশাপাশি আন্দ্রেয়া পিরলোর নামও আলোচনায় রয়েছে। তবে বর্তমানে আন্তোনিও কন্তে ও রোবের্তো মানচিনিকেই কোচ হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে রাখা হচ্ছে।
২০০৬ সালে চতুর্থবারের মতো বিশ্বকাপ শিরোপা জয়ের পর থেকেই বিশ্বকাপের মঞ্চে ইতালির পারফরম্যান্স হতাশাজনক। ২০১০ ও ২০১৪ বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেয় চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। এরপর ২০১৮, ২০২২ ও ২০২৬—টানা তিনটি বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়েছে দলটি।
তবে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে ইতালির সাফল্য তুলনামূলকভাবে উজ্জ্বল। রোবের্তো মানচিনির অধীনে ২০২১ সালে ইউরোর শিরোপা জিতেছিল ইতালি। এখন নতুন কোচের অধীনে আবারও বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ মঞ্চে ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষ্য দলটির।
মন্তব্য করুন
২০ জুলাই ২০২৬, ০৭:৩৬ পিএম
২০ জুলাই ২০২৬, ০৯:৩৯ পিএম