সোমবার
২৯ জুন ২০২৬, ১৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬, ১৫ আষাঢ় ১৪৩৩

সূরা আল-বাকারার শেষ দুই আয়াতের ফজিলত

ইসলামী জাহান ডেস্ক
প্রকাশ : ১০ মে ২০২৬, ০৯:১৫ এএম
সূরা আল-বাকারার শেষ দুই আয়াতের ফজিলত

পবিত্র আল-কোরআনের দ্বিতীয় সূরা হলো সূরা আল-বাকারা। এই সূরার শেষ দুটি আয়াত অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ ও মর্যাদাসম্পন্ন। ইসলামী শরিয়তে আয়াত দুটি পাঠের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। বিভিন্ন সহিহ হাদিসে এ আয়াতের অসংখ্য ফজিলত বর্ণিত হয়েছে।

ইসলামি স্কলারদের মতে, সূরা বাকারার শেষ দুই আয়াত শুধু ইমান ও আকিদার মৌলিক বিষয়গুলোই তুলে ধরে না, বরং মুমিনের জন্য দোয়া, ক্ষমা প্রার্থনা ও আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আত্মসমর্পণের শিক্ষাও বহন করে।

হাদিসে সূরা বাকারার শেষ দুই আয়াতের মর্যাদা

হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত এক হাদিসে এসেছে, সূরা ফাতেহা এবং সূরা বাকারার শেষ দুই আয়াত এমন এক বিশেষ নূর, যা পূর্ববর্তী কোনো নবীকে দেওয়া হয়নি।

সহিহ মুসলিমে বর্ণিত হাদিসে রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “সূরা ফাতেহা এবং সূরা বাকারার শেষ দুই আয়াত আল্লাহ তাআলার বিশেষ নূরস্বরূপ।” (সহিহ মুসলিম: ৮০৬)

অন্য এক হাদিসে হজরত আবু মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

“যে ব্যক্তি রাতে সূরা বাকারার শেষ দুটি আয়াত পাঠ করবে, তার জন্য এ দুটি আয়াতই যথেষ্ট হয়ে যাবে।” (সহিহ বুখারি: ৫০০৯)

আলেমদের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, এই আয়াত দুটি রাতের ইবাদত, সুরক্ষা এবং অকল্যাণ থেকে রক্ষার জন্য যথেষ্ট।

শয়তান থেকে সুরক্ষার আমল

হজরত নুমান ইবনে বাশির (রা.) থেকে বর্ণিত আরেকটি হাদিসে রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন—

“আল্লাহ তাআলা আসমান-জমিন সৃষ্টির দুই হাজার বছর আগে একটি কিতাব লিখেছেন। সেখান থেকে দুটি আয়াত নাজিল করে সূরা বাকারা সমাপ্ত করেছেন। যে ঘরে তিন রাত এই আয়াত দুটি তেলাওয়াত করা হয়, শয়তান সেই ঘরের কাছে আসে না।” (সুনানে তিরমিজি: ২৮৮২)

এ হাদিস থেকে বোঝা যায়, সূরা বাকারার শেষ দুই আয়াত নিয়মিত তেলাওয়াত করলে ঘর ও পরিবার শয়তানের অনিষ্ট থেকে নিরাপদ থাকে।

সূরা বাকারার শেষ দুই আয়াত اٰمَنَ الرَّسُوۡلُ بِمَاۤ اُنۡزِلَ اِلَیۡهِ مِنۡ رَّبِّهٖ وَ الۡمُؤۡمِنُوۡنَ ؕ کُلٌّ اٰمَنَ بِاللّٰهِ وَ مَلٰٓئِکَتِهٖ وَ کُتُبِهٖ وَ رُسُلِهٖ ۟ لَا نُفَرِّقُ بَیۡنَ اَحَدٍ مِّنۡ رُّسُلِهٖ ۟ وَ قَالُوۡا سَمِعۡنَا وَ اَطَعۡنَا ٭۫ غُفۡرَانَکَ رَبَّنَا وَ اِلَیۡکَ الۡمَصِیۡرُ لَا یُکَلِّفُ اللّٰهُ نَفۡسًا اِلَّا وُسۡعَهَا ؕ لَهَا مَا کَسَبَتۡ وَ عَلَیۡهَا مَا اکۡتَسَبَتۡ ؕ رَبَّنَا لَا تُؤَاخِذۡنَاۤ اِنۡ نَّسِیۡنَاۤ اَوۡ اَخۡطَاۡنَا ۚ رَبَّنَا وَ لَا تَحۡمِلۡ عَلَیۡنَاۤ اِصۡرًا کَمَا حَمَلۡتَهٗ عَلَی الَّذِیۡنَ مِنۡ قَبۡلِنَا ۚ رَبَّنَا وَ لَا تُحَمِّلۡنَا مَا لَا طَاقَۃَ لَنَا بِهٖ ۚ وَ اعۡفُ عَنَّا ٝ وَ اغۡفِرۡ لَنَا ٝ وَ ارۡحَمۡنَا ٝ اَنۡتَ مَوۡلٰىنَا فَانۡصُرۡنَا عَلَی الۡقَوۡمِ الۡکٰفِرِیۡنَ উচ্চারণ: আমানার রসূলু বিমা উংঝিলা ইলাইহি মির রাব্বিহি ওয়াল মু’মিনুন। কুল্লুন আমানা বিল্লাহি ওয়া মালা-ইকাতিহি ওয়া কুতুবিহি ওয়া রুসুলিহ।

লা-নুফাররিকু বাইনা আহাদিম মির রুসুলিহ। ওয়া ক্বালূ সামি‘না ওয়া আত্বা‘না গুফরানাকা রাব্বানা ওয়া ইলাইকাল মাসির। লা ইউকাল্লিফুল্লাহু নাফসান ইল্লা উস‘আহা লাহা মা কাসাবাত ওয়া আলাইহা মাকতাসাবাত রাব্বানা লা তুআখিজনা ইন-নাসীনা আও আখত্ব’না রাব্বানা ওয়ালা তাহমিল আলাইনা ইসরং কামা হামালতাহু আলাল্লাজীনা মিং ক্ববলিনা রব্বানা ওয়ালা তুহাম্মিলনা মা লা ত্ব-ক্বতালানা বিহ্। ওয়া’ফু আন্না ওয়াগফিরলানা ওয়ারহামনা আংতা মাওলানা ফাংসুরনা আলাল ক্বওমিল কাফিরীন।

অর্থ: রাসূল তার কাছে তার রবের পক্ষ থেকে নাজিলকৃত বিষয়ের ওপর ইমান এনেছে, আর মুমিনগণও। প্রত্যেকে ইমান এনেছে আল্লাহর ওপর, তার ফেরেশতাকুল, কিতাবসমূহ ও তার রাসূলগণের ওপর, আমরা তার রাসূলগণের মধ্যে তারতম্য করি না। আর তারা বলে, আমরা শুনলাম এবং মানলাম। হে আমাদের রব, আমরা আপনারই কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি, আর আপনার দিকেই (আমাদের) প্রত্যাবর্তনস্থল। আল্লাহ কোনো ব্যক্তিকে তার সামর্থ্যের বাইরে দায়িত্ব দেন না। সে যা ভালো করেছে তার সওয়াব পাবে এবং মন্দ কর্মের জন্য সে নিজেই নিগ্রহ ভোগ করবে। হে আমাদের রব, আমরা যদি ভুলে যাই, অথবা ভুল করি তাহলে আপনি আমাদেরকে পাকড়াও করবেন না। হে আমাদের রব, আমাদের ওপর বোঝা চাপিয়ে দেবেন না, যেমন আমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর চাপিয়ে দিয়েছেন। হে আমাদের রব, আপনি আমাদের এমন কিছু বহন করাবেন না, যার সামর্থ্য আমাদের নেই। আর আপনি আমাদের মার্জনা করুন এবং আমাদের ক্ষমা করুন, আর আমাদের ওপর দয়া করুন। আপনি আমাদের অভিভাবক। অতএব আপনি কাফির সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে আমাদেরকে সাহায্য করুন।

আয়াত দুটি পাঠের উপকারিতা ইসলামি বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত সূরা বাকারার শেষ দুই আয়াত তেলাওয়াত করলে— আল্লাহর রহমত লাভ হয়, শয়তানের অনিষ্ট থেকে সুরক্ষা পাওয়া যায়, রাতের ইবাদতের সওয়াব অর্জিত হয়, মানসিক প্রশান্তি বৃদ্ধি পায়, আল্লাহর কাছে ক্ষমা ও সাহায্যের দোয়া করা হয়।

মুমিনের জীবনে এই আয়াত দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আমল হিসেবে বিবেচিত। প্রতিদিন রাতে ঘুমানোর আগে আয়াত দুটি পাঠ করার অভ্যাস গড়ে তোলার প্রতি ইসলাম গুরুত্বারোপ করেছে।

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

যশোরে পাট পণ্যের ব্যবহার বৃদ্ধি বিষয়ক মতবিনিময় সভা

যশোরে আদ-দ্বীন হাসপাতালের প্রয়োজনীয়তা শীর্ষক সেমিনার  

যশোরে বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস পালিত

মহেশপুরে গাজীরননেছা বালিকা বিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উপলক্ষে র‌্যালি ও আলোচনা সভা

মোরেলগঞ্জে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে নারিকেল চারা ও কৃষি প্রণোদনা বিতরণ

শৈলকুপায় পাঁচ দিনের ব্যবধানে দুই কিশোরের মৃত্যু

সুনামগঞ্জ পৌরসভায় ৫৪ কোটি ১৫ লাখ টাকার বাজেট ঘোষণা

মণিরামপুরে সেতুর কাজ থমকে, দুর্ভোগে ২০ গ্রাম

আগামী ইউপি নির্বাচন ঘিরে মণিরামপুরে বিএনপির ঐক্যের শপথ

নড়াইলে গণতন্ত্র অলিম্পিয়াড, অংশ নিলেন ২৭৫ শিক্ষার্থী

যশোর নওয়াপাড়ায় কৃষক দলের কর্মী সমাবেশ অনুষ্ঠিত

কেশবপুরে মাইকেল মধুসূদনের ১৫৩তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

কেশবপুরে মাদ্রাসার কমিটি গঠন নিয়ে বিরোধ, সংবাদ সম্মেলনে মারধরের অভিযোগ

যশোরে পৃথক অভিযানে মাদক ও চাকুসহ তিনজন আটক

যশোরে আওয়ামী লীগের দুই কর্মীর বিরুদ্ধে বিএনপি নেতাকে হত্যার হুমকির অভিযোগ, তদন্তে পুলিশ

হেরোইনের মামলায় বেনাপোলের জামাল হোসেনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

যশোরে যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং রোধে ট্রাফিক পুলিশের বিশেষ অভিযান শুরু

পলাশবাড়ীতে মারধর ও বাড়িঘর ভাঙচুরের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

রাম মন্দিরের অনুদান আত্মসাৎ, বিপাকে মোদি সরকার

সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল দ্রুত চালুর দাবিতে বিক্ষোভ-সমাবেশ

X