
আমাদের জীবনের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ সময় কেটে যায় বিছানায়—ঘুম, বিশ্রাম কিংবা আরাম করে শুয়ে থাকার মধ্য দিয়ে। তাই বিছানার চাদর শুধু আরামদায়ক হলেই চলবে না, সেটি হতে হবে পরিষ্কার ও স্বাস্থ্যসম্মত। কারণ, নিয়মিত পরিষ্কার না করা বিছানার চাদর অজান্তেই হয়ে উঠতে পারে জীবাণু, ধুলাকীট ও অ্যালার্জির উৎস।
ঘুমানোর সময় আমাদের শরীর থেকে প্রতিনিয়ত মৃত ত্বককোষ ঝরে পড়ে। এগুলো ঘাম, ধুলাবালি ও শরীরের তেলের সঙ্গে মিশে বিছানার চাদরে জমা হতে থাকে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মৃত ত্বককোষ ধুলাকীটের প্রধান খাদ্য। ফলে যত বেশি সময় চাদর না ধোয়া হবে, তত বেশি ধুলাকীট সেখানে বংশবিস্তার করার সুযোগ পাবে।
ধুলাকীটের উপস্থিতি অ্যালার্জি, হাঁচি, নাক বন্ধ হওয়া এবং হাঁপানির মতো শ্বাসতন্ত্রের বিভিন্ন সমস্যার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।
দীর্ঘদিন চাদর পরিষ্কার না করলে সেখানে বিভিন্ন ধরনের ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাস জমা হতে পারে। এসব জীবাণু শরীরের সংস্পর্শে এসে সংক্রমণের কারণ হতে পারে। বিশেষ করে যাদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা তুলনামূলক কম, তাদের জন্য এই ঝুঁকি আরও বেশি।
এ ছাড়া ঘাম ও ময়লার কারণে স্যাঁতসেঁতে হয়ে থাকা চাদর ত্বকে লালচে দাগ, চুলকানি এবং অ্যালার্জির মতো সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।
অপরিষ্কার চাদরে শরীরের তেল, ঘাম ও ব্যাকটেরিয়া জমে থাকে। এসব উপাদান মুখ ও ত্বকের সংস্পর্শে এসে ব্রণ, ফুসকুড়ি এবং অন্যান্য ত্বকজনিত সমস্যার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। সংবেদনশীল ত্বকের মানুষের ক্ষেত্রে এর প্রভাব আরও বেশি দেখা যায়।
চাদরে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা আর্দ্রতা ও ময়লা ছত্রাকের জন্ম দিতে পারে। ছত্রাক শুধু দুর্গন্ধই সৃষ্টি করে না, এটি শ্বাসপ্রশ্বাসজনিত সমস্যার কারণও হতে পারে। বিশেষ করে যাদের অ্যালার্জি বা ফুসফুসের সমস্যা রয়েছে, তাদের জন্য এটি উদ্বেগের বিষয়।
পরিষ্কার ও সতেজ বিছানা ভালো ঘুমের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। নোংরা, স্যাঁতসেঁতে বা দুর্গন্ধযুক্ত চাদর ঘুমের মান কমিয়ে দেয় এবং দীর্ঘমেয়াদে অনিদ্রা বা ঘুমের ব্যাঘাতের কারণ হতে পারে। ফলে শারীরিক ও মানসিক সুস্থতাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষজ্ঞদের অধিকাংশই মনে করেন, সপ্তাহে অন্তত একবার বিছানার চাদর ধোয়া সবচেয়ে ভালো অভ্যাস। তবে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক পরিচ্ছন্নতা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ডার্টি ল্যাবের সহপ্রতিষ্ঠাতা ড. পিট হের মতে, সপ্তাহে একবার সম্ভব না হলে অন্তত দুই সপ্তাহে একবার অবশ্যই চাদর পরিষ্কার করা উচিত।
নিদ্রাবিশেষজ্ঞ ডা. লিন্ডসে ব্রাউনিংও একই ধরনের পরামর্শ দিয়েছেন। তবে যাদের শরীরে বেশি ঘাম হয়, ত্বক সংবেদনশীল বা অ্যালার্জিপ্রবণ, তাদের ক্ষেত্রে এক সপ্তাহের বেশি সময় একই চাদর ব্যবহার না করাই উত্তম।
সুস্থ ও আরামদায়ক ঘুম নিশ্চিত করতে বিছানার চাদর নিয়মিত পরিষ্কার রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সপ্তাহে একবার চাদর ধোয়ার অভ্যাস গড়ে তুললে অ্যালার্জি, ত্বকের সমস্যা, জীবাণু সংক্রমণ এবং ঘুমের নানা জটিলতা থেকে অনেকটাই সুরক্ষিত থাকা সম্ভব। একটি পরিষ্কার বিছানা শুধু আরামই দেয় না, এটি সুস্থ জীবনযাপনেরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
মন্তব্য করুন