
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে থানার সামনে দুই সাংবাদিকের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার রাত ৯টার দিকে কালীগঞ্জ থানার সামনে এ হামলার ঘটনা ঘটে। হামলায় আহত সাংবাদিক শাহরিয়ার আলম সোহাগ ও মিশন আলী বর্তমানে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আহত শাহরিয়ার আলম সোহাগ দীপ্ত টিভির ঝিনাইদহ জেলা প্রতিনিধি ও দৈনিক যুগান্তরের কালীগঞ্জ উপজেলা প্রতিনিধি। অপর আহত সাংবাদিক মিশন আলী নাগরিক টিভির ঝিনাইদহ জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত।
সাংবাদিক মিশন আলী জানান, গত ১১ জুলাই কালীগঞ্জ শহরের আড়পাড়া এলাকায় মাদক ব্যবসাকে কেন্দ্র করে মিলন হোসেন নামে এক যুবককে কয়েকজন অজ্ঞাত যুবক মারধর করে। এ ঘটনায় শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে আড়পাড়া এলাকার মিঠু নামের এক যুবককে পুলিশ আটক করে।
পরে রাত সাড়ে ৮টার দিকে স্থানীয় কয়েকজন নারী ও এলাকাবাসী পুলিশের সঙ্গে কথা বলতে কালীগঞ্জ থানায় যান। এ সময় ঘটনাটি সংবাদ সংগ্রহের জন্য রাত ৯টার দিকে থানার সামনে উপস্থিত হন সাংবাদিকরা। তাদের দাবি, সেখানে কয়েকজন রাজনৈতিক নেতাকর্মী থানায় আসা নারীদের ওপর হামলা চালান। সাংবাদিকরা ওই ঘটনার ভিডিও ধারণ করতে গেলে তাদের ভিডিও করতে নিষেধ করা হয় এবং একপর্যায়ে হামলা চালানো হয়।
মিশন আলীর অভিযোগ, উপজেলা কৃষকদলের যুগ্ম আহ্বায়ক জালাল প্রথমে তার ওপর হামলা করেন। পরে অন্যরাও হামলায় অংশ নেন।
সাংবাদিক শাহরিয়ার আলম সোহাগ বলেন, আড়পাড়া এলাকার একটি ঘটনায় মামলা না নেওয়ার অভিযোগে ১৬ থেকে ২০ জন নারী থানায় এসেছিলেন। এ সময় উপজেলা কৃষকদলের যুগ্ম আহ্বায়ক জালালসহ কয়েকজন তাদের ওপর হামলা চালান। সাংবাদিকরা ঘটনার ভিডিও ধারণ করতে গেলে তাদের ওপরও হামলা করা হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন।
শাহরিয়ার আলম সোহাগ আরও অভিযোগ করেন, কালীগঞ্জ থানার ওসির বিরুদ্ধে মাদক নিয়ে বাণিজ্য এবং এক আসামির মোবাইল ফোন গায়েবের অভিযোগ নিয়ে দৈনিক যুগান্তরে সংবাদ প্রকাশের পর থেকেই সাংবাদিকদের ওপর ক্ষোভ ছিল। এর জের ধরেই হামলা হয়ে থাকতে পারে বলে তিনি দাবি করেন।
তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জেল্লাল হোসেন বলেন, শুক্রবার সন্ধ্যায় আড়পাড়া এলাকার একটি নিয়মিত মামলার আসামি মিঠুকে আটক করা হয়। পরে রাত ৮টার দিকে তার পরিবারের সদস্যরা এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে থানায় আসার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে তিনি জানতে পারেন।
ওসি জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তিনি নিমতলা এলাকার বিএনপির কয়েকজন নেতাকে বিষয়টি জানান এবং নারীরা যাতে থানার ভেতরে প্রবেশ করতে না পারেন, সে বিষয়ে সহযোগিতা চান। পরে আড়পাড়া এলাকার কয়েকজন নারী থানার সামনে উপস্থিত হলে জালাল ও তার সঙ্গে থাকা দলীয় নেতাকর্মীরা তাদের ফিরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় সাংবাদিকরা ঘটনার ভিডিও ধারণ করতে গেলে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে তাদের ধাক্কাধাক্কি হয় বলে তিনি জানান।
মন্তব্য করুন