
তীব্র গরম এবং দীর্ঘদিনের বৃষ্টিপাতের ঘাটতির কারণে কাপ্তাই হ্রদের পানির স্তর আশঙ্কাজনক হারে কমে গেছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে দেশের একমাত্র জলবিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রে (কপাবিকে)। পানির স্বল্পতার কারণে কেন্দ্রটির পাঁচটি উৎপাদন ইউনিটের মধ্যে তিনটি ইউনিট বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ।
বর্তমানে চালু থাকা দুটি ইউনিট থেকেও সীমিত পরিসরে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছে। কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, এখন মাত্র ৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে, যেখানে পূর্ণ সক্ষমতায় পাঁচটি ইউনিট থেকে প্রায় ২৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায়।
কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কন্ট্রোল রুম সূত্র জানায়, মঙ্গলবার ২ নম্বর ইউনিট থেকে ৩৩ মেগাওয়াট এবং ৩ নম্বর ইউনিট থেকে ২৭ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে। পানির স্তর কমে যাওয়ার কারণে অন্য তিনটি ইউনিট বন্ধ রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র আরও জানায়, বছরের এই সময়ে কাপ্তাই হ্রদের স্বাভাবিক পানির স্তর থাকার কথা প্রায় ৭৮.০৮ মিন সি লেভেল (এমএসএল)। কিন্তু বর্তমানে তা নেমে এসেছে ৭৩.৯৯ এমএসএলে, যা স্বাভাবিক মাত্রার তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম।
কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান জানান, হ্রদের পানির স্তর হ্রাস পাওয়ায় তিনটি ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। চালু থাকা দুটি ইউনিট থেকেও সীমিত মাত্রায় বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছে।
এদিকে কাপ্তাই হ্রদের পানির স্তর কমে যাওয়ায় শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদনই নয়, পার্বত্য অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থাও হুমকির মুখে পড়েছে। রাঙ্গামাটি জেলার বাঘাইছড়ি, লংগদু, বরকল, বিলাইছড়ি ও জুড়াছড়ি উপজেলার অনেক এলাকার যোগাযোগ নৌপথনির্ভর। প্রতিবছর শুষ্ক মৌসুমে পানির স্তর কমে গেলে এসব অঞ্চলে নৌযান চলাচল ব্যাহত হয়, যার ফলে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং জরুরি সেবার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।
মন্তব্য করুন
১০ জুন ২০২৬, ০৪:১৫ পিএম
১০ জুন ২০২৬, ০৩:৩৭ পিএম