
বিয়ের পর ধীরে ধীরে ওজন বৃদ্ধি পাওয়া নারী-পুরুষ উভয়ের মধ্যেই একটি সাধারণ বিষয়। অনেকেই লক্ষ্য করেন যে বিয়ের কয়েক মাস বা কয়েক বছরের মধ্যে তাদের শরীরের ওজন আগের তুলনায় বেড়ে গেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর পেছনে রয়েছে শারীরিক, মানসিক এবং জীবনধারাজনিত নানা কারণ।
বিয়ের আগে অনেকেই নিয়মিত হাঁটাহাঁটি, ব্যায়াম বা বিভিন্ন শারীরিক কার্যক্রমে অংশ নেন। তবে বিয়ের পর নতুন দায়িত্ব, পারিবারিক ব্যস্ততা এবং সময়ের অভাবে অনেকেরই শারীরিক সক্রিয়তা কমে যায়। ফলে শরীরে অতিরিক্ত ক্যালোরি জমা হতে শুরু করে এবং ওজন বৃদ্ধি পায়।
দাম্পত্য জীবনে একসঙ্গে সময় কাটানোর অন্যতম মাধ্যম হলো খাবার খাওয়া। অনেক ক্ষেত্রে স্বামী-স্ত্রী একসঙ্গে বেশি পরিমাণে খাবার গ্রহণ করেন। বিশেষ করে বাইরে খাওয়া, ফাস্টফুড, তেল-চর্বিযুক্ত খাবার কিংবা মিষ্টিজাতীয় খাবারের প্রতি ঝোঁক বাড়তে পারে, যা ওজন বৃদ্ধির অন্যতম কারণ।
নারীদের ক্ষেত্রে বিয়ের পর হরমোনগত বিভিন্ন পরিবর্তন ঘটে। বিশেষত গর্ভধারণ এবং সন্তান জন্মদানের সময় ওজন বৃদ্ধি একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। অনেক সময় সন্তান জন্মের পর অতিরিক্ত ওজন কমানো কঠিন হয়ে পড়ে।
অন্যদিকে পুরুষদের ক্ষেত্রেও জীবনযাত্রার পরিবর্তন, মানসিক চাপ এবং হরমোনের সামান্য ওঠানামা শরীরের ওজন বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখতে পারে।
বিয়ের পর প্রথম কয়েক মাস বা এক বছর পর্যন্ত আত্মীয়-স্বজনদের বাসায় দাওয়াত কিংবা নিজেদের বাসায় আপ্যায়নের আয়োজন প্রায় নিয়মিত চলতে থাকে। এসব অনুষ্ঠানে সাধারণত উচ্চ ক্যালোরিযুক্ত ও ভারী খাবার পরিবেশন করা হয়, যা অতিরিক্ত ওজন বৃদ্ধির ঝুঁকি বাড়ায়।
বিয়ের পর জীবনে স্থিতিশীলতা আসার সঙ্গে সঙ্গে অনেকেই তুলনামূলক আরামপ্রিয় হয়ে ওঠেন। এছাড়া মানসিক প্রশান্তি বা আনন্দ উদযাপনের অংশ হিসেবে বেশি খাওয়া, যা "কমফোর্ট ইটিং" নামে পরিচিত, ওজন বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
দাম্পত্য জীবনে ঘুমের সময়সূচি ও অভ্যাসে পরিবর্তন আসা স্বাভাবিক। তবে পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়া বা অনিয়মিত ঘুম শরীরের ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণকারী হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে। এর ফলে ক্ষুধা বেড়ে যায় এবং অতিরিক্ত খাবার গ্রহণের কারণে ওজন বৃদ্ধি ঘটে।
বিয়ের পর সুস্থ ওজন ধরে রাখতে নিয়মিত ব্যায়াম, সুষম খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত ঘুম এবং স্বাস্থ্যকর জীবনধারা অনুসরণ করা জরুরি। পাশাপাশি অতিরিক্ত তেল-চর্বিযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলা এবং দৈনন্দিন শারীরিক কার্যকলাপ বজায় রাখলে ওজন বৃদ্ধির ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
মন্তব্য করুন
১০ জুন ২০২৬, ০৪:১৫ পিএম
১০ জুন ২০২৬, ০৩:৩৭ পিএম