
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, সাম্প্রতিক মার্কিন হামলার জবাবে তারা অঞ্চলজুড়ে মার্কিন বিমান ও নৌঘাঁটিসহ ২১টি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে।
একই সঙ্গে তেহরান স্পষ্ট বার্তা দিয়ে জানিয়েছে, দেশটির বিরুদ্ধে যেকোনো হামলা বা হুমকির কঠোর জবাব দেওয়া হবে। এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বুধবার (১০ জুন) ভোরে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে জর্ডানের আল আজরাক বিমানঘাঁটির চারটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে।
আইআরজিসির দাবি অনুযায়ী, লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে ছিল এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান সংরক্ষণের হ্যাঙ্গার এবং একটি কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র। তবে এই দাবির স্বাধীন কোনো যাচাই তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে জর্ডানের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ইরান থেকে আল আজরাক অঞ্চলের দিকে নিক্ষেপ করা পাঁচটি ক্ষেপণাস্ত্র তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সফলভাবে ধ্বংস করেছে।
সেনাবাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর ধ্বংসাবশেষ মাটিতে পড়লেও কোনো প্রাণহানি বা সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।
আইআরজিসি আরও দাবি করেছে, তারা কুয়েতের আলি আল সালেম বিমানঘাঁটিকে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালিয়েছে। সংস্থাটির মতে, এটি ছিল ‘মার্কিন আগ্রাসনের’ বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ।
একই সঙ্গে বাহরাইনে অবস্থানরত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের বিরুদ্ধেও ড্রোন অভিযান পরিচালনার দাবি করা হয়েছে। আইআরজিসি জানিয়েছে, স্থানীয় সময় রাত আড়াইটার দিকে অভিযান শুরু হয় এবং সংঘর্ষ চলমান রয়েছে।
তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ভবিষ্যতে আরও হামলা হলে আরও কঠোর জবাব দেওয়া হবে।
আইআরজিসি পৃথক এক বিবৃতিতে জানায়, দক্ষিণ ইরানের বুশেহর প্রদেশের আকাশে একটি মার্কিন এমকিউ-৯ ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে।
এছাড়া দক্ষিণ ইরানের জাস্ক, সিরিক ও কেশম এলাকায় সাম্প্রতিক মার্কিন হামলার প্রতিক্রিয়ায় এসব সামরিক অভিযান চালানো হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
আইআরজিসির তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন হামলায় সিরিক অঞ্চলের একটি টেলিযোগাযোগ টাওয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বামানি এলাকায় দুটি পানির ট্যাংক ধ্বংস হয়েছে।
এদিকে কুয়েতের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, বুধবার ভোরে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কয়েকটি ‘শত্রুতামূলক’ আকাশীয় লক্ষ্যবস্তু প্রতিহত করেছে। তবে এসব লক্ষ্যবস্তুর প্রকৃতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
অন্যদিকে প্রতিবেশী বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে দেশজুড়ে সতর্কতামূলক সাইরেন চালুর ঘোষণা দিয়েছে।
দক্ষিণ ইরানে মার্কিন হামলার পর বুধবার ভোরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে কোনো হামলা বা হুমকি জবাবহীন থাকবে না।
তিনি আরও বলেন, যুদ্ধক্ষেত্রে পরাজয়ের পরও যুক্তরাষ্ট্র আমাদের দৃঢ়তা পরীক্ষা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
আরাগচি জোর দিয়ে বলেন, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী যেকোনো হামলা বা হুমকির উপযুক্ত জবাব দিতে প্রস্তুত রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে বলেন, নিরাপদ থাকতে চাইলে আমাদের অঞ্চল ছেড়ে যাও।
মন্তব্য করুন
১০ জুন ২০২৬, ০৪:১৫ পিএম
১০ জুন ২০২৬, ০৩:৩৭ পিএম