
দক্ষিণ ইরানের বিভিন্ন এলাকায় সাম্প্রতিক মার্কিন হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তিনি বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের হামলা বা হুমকি এলে তেহরান নীরব থাকবে না এবং দেশটির সশস্ত্র বাহিনী উপযুক্ত জবাব দিতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।
ইরানের সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার (১০ জুন) ভোরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে আব্বাস আরাগচি যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেন।
পোস্টে আরাগচি বলেন, যুদ্ধক্ষেত্রে পরাজয়ের পরও যুক্তরাষ্ট্র আমাদের দৃঢ়তা পরীক্ষা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, আমাদের শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী কোনো হামলা বা হুমকির জবাব না দিয়ে বসে থাকবে না।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রকে উদ্দেশ করে আরও বলেন, নিরাপদ থাকতে চাইলে পারস্য অঞ্চল ছেড়ে চলে যাও। তিনি দাবি করেন, পারস্য উপসাগরের ইতিহাসে বহিরাগত শক্তিগুলোর হস্তক্ষেপের পরিণতি সবসময়ই ভয়াবহ হয়েছে।
এর আগে ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম জানিয়েছিল, দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় হরমোজগান প্রদেশের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে মার্কিন হামলা চালানো হয়েছে। হামলার লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে কেশম দ্বীপ, জাস্ক এবং সিরিক এলাকার নাম উল্লেখ করা হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এসব হামলার মাধ্যমে অঞ্চলে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে এবং মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
হামলার ঠিক আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানায়, ওমান উপকূলের কাছে একটি মার্কিন অ্যাপাচি সামরিক হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হওয়ার পর তারা ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করেছে।
এর একদিন আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিশ্চিত করেন যে হরমুজ প্রণালির কাছে একটি মার্কিন অ্যাপাচি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়েছে।
তিনি অভিযোগ করেন, হেলিকপ্টারটি ইরান ভূপাতিত করেছে এবং এ ঘটনার জবাব দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের জন্য “অবশ্যই প্রয়োজন”।
তবে ইরানের সরকারি কর্মকর্তা ও সামরিক বাহিনী অ্যাপাচি হেলিকপ্টার বিধ্বস্তের ঘটনায় নিজেদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছে।
তাদের দাবি, এ ঘটনায় ইরানের কোনো ভূমিকা নেই। একই সঙ্গে তারা সতর্ক করে বলেছে, ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের আগ্রাসন চালানো হলে তার যথাযথ প্রতিশোধ নেওয়া হবে।
মার্কিন হামলার আগেও আব্বাস আরাগচি সতর্কবার্তা দিয়ে বলেছিলেন, ইরানের আকাশসীমা, স্থলসীমা এবং জলসীমা লঙ্ঘনের যেকোনো প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে দেশটির সশস্ত্র বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আমাদের ভূখণ্ডের আশপাশে অবস্থানরত বিদেশি বাহিনী নিজেদের ভুল, দুর্ঘটনা অথবা সংঘাতের মধ্যে পড়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
পরিস্থিতির অবনতি ঠেকাতে বিদেশি বাহিনীকে দ্রুত অঞ্চল ত্যাগ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শত্রুভাবাপন্ন সামরিক উপস্থিতির জন্য এই অঞ্চল কখনোই অনুকূল পরিবেশ হবে না। ঝুঁকি কমানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো বিদেশি বাহিনীর দ্রুত সরে যাওয়া।
মন্তব্য করুন
১০ জুন ২০২৬, ০৪:১৫ পিএম
১০ জুন ২০২৬, ০৩:৩৭ পিএম