
ফেনীর পরশুরামে একটি আবাসিক ভবনের ফ্ল্যাট থেকে ফারহানা আক্তার প্রিয়া (১৬) নামে এক গৃহকর্মীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সন্ধ্যায় উপজেলা গেটসংলগ্ন কাদের টাওয়ারের তৃতীয় তলার একটি ফ্ল্যাট থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
প্রিয়া স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক জাহেদা আক্তার তিমুর বাসায় গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করতেন। তিনি নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার সেবারহাট এলাকার সাইফুল ইসলাম ও ফারজানা আক্তারের মেয়ে। পারিবারিক সমস্যার কারণে প্রায় তিন বছর আগে তাকে ওই বাসায় গৃহকর্মী হিসেবে রাখা হয়। এরপর থেকে সেখানেই কাজ করছিলেন তিনি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার বিকেলে স্কুল থেকে বাসায় ফিরে দরজা ভেতর থেকে বন্ধ দেখতে পান জাহেদা আক্তার তিমু। দীর্ঘ সময় ডাকাডাকি ও দরজায় ধাক্কা দিয়েও কোনো সাড়া না পেয়ে স্থানীয়দের সহায়তায় দরজা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করেন তিনি। এ সময় সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় প্রিয়ার ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান।
খবর পেয়ে পরশুরাম থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি ফেনী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থল থেকে একটি ধাতব 'লাভ' আকৃতির বস্তু এবং ডায়েরির একটি পাতায় ইংরেজি অক্ষরে 'K+P' লেখা একটি চিরকুট উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এসব আলামতের সঙ্গে মৃত্যুর কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা তদন্তের আগে নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।
বাসার গৃহকর্ত্রী জাহেদা আক্তার তিমু বলেন, সকালে স্কুলে যাওয়ার আগে প্রিয়াকে ভাত রান্না করে খেয়ে নিতে বলেছিলাম। তাকে আমি নিজের পরিবারের সদস্যের মতোই দেখতাম।
পরশুরাম মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেছে। এটি আত্মহত্যা, নাকি মৃত্যুর পেছনে অন্য কোনো কারণ বা প্ররোচনা রয়েছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। তদন্ত শেষে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন