
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় উৎসব শ্রীশ্রী জগন্নাথদেবের উল্টো রথযাত্রা আজ শুক্রবার সারাদেশে অনুষ্ঠিত হবে। এ উপলক্ষে রাজধানী ঢাকার তাঁতীবাজারে দিনব্যাপী বিভিন্ন ধর্মীয় কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।
তাঁতীবাজারের শ্রীশ্রী জগন্নাথ জিউ ঠাকুর মন্দিরে প্রভাতি আরতির মধ্য দিয়ে দিনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। দুপুরে ভোগ আরতি শেষে শ্রীশ্রী জগন্নাথদেব, বলরাম ও সুভদ্রা দেবীকে মাসির বাড়ি থেকে তাঁতীবাজারের দুর্গাপূজা প্রাঙ্গণে এনে রথে স্থাপন করা হবে।
আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, বিকেল ৪টায় রথ টানা শুরু হবে। রথটি তাঁতীবাজার দুর্গাপূজা প্রাঙ্গণ থেকে উত্তর দিকে যাত্রা করে ইংলিশ রোড, রায় সাহেব বাজার মোড়, ডিসি অফিস, ভিক্টোরিয়া পার্ক, জনসন রোড, সদরঘাট মোড়, পাটুয়াটুলী, ইসলামপুর, কোতোয়ালি রোড ও শিবমন্দির হয়ে পুনরায় তাঁতীবাজার দুর্গাপূজা প্রাঙ্গণে ফিরে আসবে।
ধর্মীয় বিশ্বাস ও ঐতিহ্য অনুযায়ী, জগন্নাথদেব, বলরাম ও সুভদ্রা দেবীর মাসির বাড়ি অর্থাৎ গুন্ডিচা মন্দিরে যাত্রাকে কেন্দ্র করে রথযাত্রার প্রচলন। এর সাত দিন পর তাঁদের মূল মন্দিরে ফিরে আসার যাত্রাকে বলা হয় উল্টো রথযাত্রা।
রথযাত্রা বিশ্বের প্রাচীন ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যগুলোর অন্যতম। ভারতের ওডিশার পুরী শহর জগন্নাথদেবের রথযাত্রার জন্য বিশ্বজুড়ে বিখ্যাত। প্রতিবছর এই উৎসব উপলক্ষে দেশ-বিদেশের লাখো ভক্ত পুরীতে সমবেত হন এবং জগন্নাথদেবের দর্শন ও রথযাত্রায় অংশ নেন।
প্রচলিত ইতিহাস অনুযায়ী, রথযাত্রার সূচনা সত্যযুগে। সেই সময় ওডিশা অঞ্চল মালব দেশ নামে পরিচিত ছিল। কিংবদন্তি অনুসারে, অবন্তি নগরের সূর্যবংশীয় রাজা ইন্দ্রদ্যুম্ন ছিলেন ভগবান বিষ্ণুর একনিষ্ঠ ভক্ত। স্বপ্নাদেশের মাধ্যমে তিনি জগন্নাথদেবের মূর্তি প্রতিষ্ঠা ও রথযাত্রা আয়োজনের নির্দেশ পান। পরবর্তীতে তিনি পুরীতে জগন্নাথ মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন এবং সেখানে জগন্নাথদেবের মূর্তি স্থাপন করেন। সেই সময় থেকেই রথযাত্রার ঐতিহ্য ধীরে ধীরে বিস্তৃত হয় বলে বিশ্বাস করা হয়।
বর্তমানে পুরীতে তিনটি বিশাল কাঠের রথে জগন্নাথদেব, বড় ভাই বলরাম ও ছোট বোন সুভদ্রা দেবীকে স্থাপন করে রথযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান শেষে ভক্তরা রথের দড়ি টেনে রথযাত্রায় অংশ নেন।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে রথ টানা অত্যন্ত পুণ্য ও শুভ কাজ হিসেবে বিবেচিত। ভক্তদের বিশ্বাস, জগন্নাথদেবের রথযাত্রায় অংশগ্রহণ করলে দেবতার আশীর্বাদ লাভ করা যায় এবং আধ্যাত্মিক শুদ্ধি অর্জিত হয়।
রথযাত্রা শুধু একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি ভক্তি, আধ্যাত্মিকতা, ঐক্য ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যেরও প্রতীক। এই শোভাযাত্রায় জাতি, বর্ণ ও ধর্মের বিভেদ ভুলে মানুষের অংশগ্রহণ উৎসবটিকে আরও সার্বজনীন ও তাৎপর্যপূর্ণ করে তোলে।
মন্তব্য করুন