
বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলায় প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকারভিত্তিক খাল খনন কর্মসূচির আওতায় বাস্তবায়িত প্রকল্পের কাজ শেষে অব্যয়িত ৪২ লাখ ৪০ হাজার ২৬৩ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের উদ্যোগে ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে কর্মসৃজন কর্মসূচির আওতায় বলইবুনিয়া ও খাউলিয়া ইউনিয়নে প্রায় ২ কোটি টাকা ব্যয়ে ৮ কিলোমিটার খাল পুনঃখনন করা হয়। প্রকল্প বাস্তবায়ন শেষে অবশিষ্ট ৪২ লাখ ৪০ হাজার ২৬৩ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে।
প্রকল্পের আওতায় দীর্ঘদিন ভরাট হয়ে থাকা খাল পুনঃখননের মাধ্যমে পানি চলাচল স্বাভাবিক করা, জলাবদ্ধতা নিরসন, খালের দুই পাড়ে বৃক্ষরোপণ, দৃষ্টিনন্দন মাটির রাস্তা নির্মাণ, কাঠের সাঁকো নির্মাণ এবং পাইপলাইনের মাধ্যমে কৃষিজমিতে সেচের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
বলইবুনিয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডে মোল্লার জোর থেকে আমবাড়িয়া মনির গাজীর বাড়ি হয়ে মধ্য কালিকাবাড়ী পর্যন্ত প্রায় ৪ কিলোমিটার খাল পুনঃখনন করা হয়। একইভাবে খাউলিয়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে সন্ন্যাসী ঋষি বাড়ি থেকে সাবেক চেয়ারম্যান আবুল খয়েরের বাড়ি অভিমুখী খেজুরবাড়িয়া খাল পুনঃখনন করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, খাল পুনঃখননের ফলে দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা দূর হয়েছে। পাশাপাশি মিঠাপানি সংরক্ষণের সুযোগ তৈরি হওয়ায় কৃষকরা আরও বেশি ফসল উৎপাদনের আশা করছেন। তারা এ উদ্যোগের জন্য সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আহসান উল্লাহ বলেন, প্রকল্পের আওতায় নির্ধারিত ৮ কিলোমিটার খাল পুনঃখননের কাজ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এর ফলে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাবিবুল্লাহ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উদ্যোগে প্রায় ২ কোটি টাকা ব্যয়ে দুটি খাল পুনঃখনন করা হয়েছে। একই সঙ্গে খালে কাঠের সাঁকো নির্মাণ, প্রায় ২০ হাজার ঔষধি, বনজ ও ফলজ গাছ রোপণ, পানি নিষ্কাশনের জন্য পাইপলাইন স্থাপন এবং খালের দুই পাশে মাটির রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, প্রকল্পের কাজ শেষে অব্যয়িত ৪২ লাখ ৪০ হাজার ২৬৩ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে।
মন্তব্য করুন