
ঝিনাইদহের মহেশপুরে আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে এক ফার্মেসি মালিকের কাছ থেকে দফায় দফায় টাকা আদায়ের অভিযোগে প্রধান আসামিসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় মহেশপুর থানায় চাঁদাবাজি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে মামলা দায়ের হয়েছে।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন মো. মাহবুবুর রহমান (৩০), মিজানুর রহমান ছোট (৩৫) ও মো. ফিরোজ (৪৫)। তাদের সবার বাড়ি ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায়।
থানা ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, মহেশপুর উপজেলার দত্তনগর বাজারের ‘মায়ের দোয়া ফার্মেসি’র মালিক মো. নুর নবীর ওষুধের দোকান থেকে অভিযুক্ত ফিরোজ ও তার স্ত্রী তানিয়া খাতুন ১ হাজার ৫২৫ টাকার ওষুধ বাকিতে নেন। গত ১ এপ্রিল পাওনা টাকা আদায়ের জন্য নুর নবী খালিশপুর এলাকায় ফিরোজের ভাড়া বাসায় গেলে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী সেখানে অবস্থান নেওয়া অন্য আসামিরা তাকে একটি আপত্তিকর পরিস্থিতিতে দাঁড় করিয়ে মোবাইল ফোনে ছবি ও ভিডিও ধারণ করেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, এরপর ঘরের দরজা বন্ধ করে সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ভুক্তভোগীর কাছে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। মানসম্মান ও প্রাণনাশের আশঙ্কায় তিনি সেদিন বিকাশ ও নগদের মাধ্যমে মোট ৭০ হাজার টাকা দিয়ে সেখান থেকে বের হন।
পরবর্তীতে গত ২১ জুলাই প্রধান আসামি মাহবুবুর রহমান পুনরায় ফোন করে ভিডিও ভাইরাল করে দেওয়ার হুমকি দিয়ে আরও টাকা দাবি করেন। ভুক্তভোগী ভয় পেয়ে বিকাশের মাধ্যমে আরও ২ হাজার ২৭ টাকা পাঠান। সব মিলিয়ে বিভিন্ন সময়ে তার কাছ থেকে ৭২ হাজার ২৭ টাকা আদায় করা হয়। পাশাপাশি বিষয়টি কাউকে জানালে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নুর নবী বাদী হয়ে মহেশপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে পুলিশ পেনাল কোড, ১৮৬০-এর ৩৮৫, ৩৮৬ ও ৫০৬(২) ধারায় মামলা (নং-২৭, তারিখ: ২২/০৭/২০২৬) রুজু করে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সাব-ইন্সপেক্টর (নিরস্ত্র) মো. আলমগীর হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশ অভিযান চালিয়ে এজাহারভুক্ত তিন আসামিকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করেছে।
পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃতদের অপরাধের পূর্ববর্তী তথ্য (পিসিপিআর) যাচাই করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রধান আসামি মাহবুবুর রহমানের বিরুদ্ধে মাদকসহ একাধিক মামলার তথ্য রয়েছে। এছাড়া মিজানুর রহমান ছোটের বিরুদ্ধেও পূর্বে চাঁদাবাজির মামলা রয়েছে।
মহেশপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মেহেদী হাসান বলেন, “মামলা দায়েরের পরপরই অভিযান চালিয়ে তিন আসামিকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার বাকি আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
মন্তব্য করুন