
মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে ভারী বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় চট্টগ্রাম অঞ্চলে একের পর এক পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটছে। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত পাওয়া খবরে পাহাড়ধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৯ জন হয়েছে। সর্বশেষ বান্দরবান ও কক্সবাজারে পাহাড়ধসে দুই পরিবারের পাঁচজনসহ সাতজনের মৃত্যু হয়। তাদের মধ্যে তিনজনই শিশু। এর আগে গত রোববার দিবাগত রাতে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবিরে ৮ জন, জেলা সদরে ১ জন, পেকুয়ায় ১ জনসহ মোট ১০ জনের মৃত্যু হয়েছিল। মঙ্গলবার চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও রাঙামাটিতে পাহাড়ধস ও দেয়ালচাপায় মৃত্যু হয় পাঁচজনের। গত বুধবার কক্সবাজারে পাঁচজন ও চট্টগ্রামে দুই শিশু নিহত হয়। টানা বৃষ্টির কারণে চট্টগ্রামসহ ছয়টি জেলায় পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন লাখো মানুষ। চট্টগ্রাম নগরে জলাবদ্ধতা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও শমসের পাড়াসহ কিছু এলাকায় এখনো পানি জমে রয়েছে। চট্টগ্রাম নগরে রেলপথ থেকে পানি না কমায় আজ শুক্রবার পর্যন্ত কক্সবাজারের সঙ্গে ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকবে বলে স্টেশনমাস্টার আবু জাফর মজুমদার। পাহাড়ধসের মাটি ও বন্যার পানিতে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কসহ চারটি সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে প্রবল অবস্থায় রয়েছে। এর প্রভাবে চট্টগ্রাম নগরে বৃষ্টি হচ্ছে পাঁচ দিন ধরে। গতকালও সকাল থেকে ভারী বর্ষণ হয়। আরও দুই থেকে তিন দিন এই বৃষ্টির ধারা অব্যাহত থাকবে। বান্দরবানের লামা উপজেলায় পাহাড়ধসের পৃথক দুটি ঘটনায় দুটি পরিবারের পাঁচজন নিহত হয়েছেন। ঘটনার সময় নিহতরা নিজেদের বসতঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন। পুলিশ জানায়, গতকাল ভোর আনুমানিক চারটার দিকে উপজেলার আজিজনগর ইউনিয়নের মিশনপাড়া (পাগলির ঝিরি) এলাকায় পাহাড়ধসে তিনজনের মৃত্যু হয়। এর প্রায় দেড় ঘণ্টা পর ভোর আনুমানিক ৫টা ৪০ মিনিটে একই ইউনিয়নের মিশনপাড়া এলাকায় পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে। এতে মাটি ও ঘরের দেয়ালের নিচে চাপা পড়ে দু’জন নিহত হন। পাহাড়ধসে পাঁচজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলার পুলিশ সুপার মো. ওহাবুল ইসলাম খন্দকার। কক্সবাজারে চকরিয়া উপজেলার বরইতলী ইউনিয়নের মহছনিয়াকাটার ডেবলতলী এলাকায় পাহাড়ধসে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এসব মৃত্যু কারোরই কাম্য নয়। আগেভাগে উদ্যোগ নিলে পাহাড় ধসে মৃত্যু রোধ করা সম্ভব।
মন্তব্য করুন