শনিবার
১১ জুলাই ২০২৬, ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩

মহম্মদপুরের পাটকাঠি যাচ্ছে নারায়ণগঞ্জ ও বরিশালে

সফল উদ্যোক্তা জাফর মোল্যা
এস আর এ হান্নান, মহম্মদপুর
প্রকাশ : ১১ জুলাই ২০২৬, ০৯:৩০ এএম
মহম্মদপুরের পাটকাঠি যাচ্ছে নারায়ণগঞ্জ ও বরিশালে

এক সময় যা ছিল কেবলই রান্নার জ্বালানি কিংবা ঘরের বেড়া দেয়ার সাধারণ উপকরণ, আজ তা রূপ নিয়েছে অত্যন্ত লাভজনক বাণিজ্যিক পণ্যে। মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার মধুমতি নদীর এলাংখালী ঘাট এখন পরিণত হয়েছে পাটকাঠি সরবরাহ কেন্দ্রে। আর এই বাণিজ্যিক রূপান্তরের নেপথ্যে রয়েছেন ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার বেলজানী গ্রামের ৬০ বছর বয়সী এক দূরদর্শী ব্যবসায়ী মো. জাফর মোল্যা। বেলজানী গ্রামের মৃত: পীর মহম্মদ আলীর ছেলে জাফর মোল্যা দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে পাটকাঠির এই ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন।

মাগুরা সদর, মহম্মদপুর এবং নড়াইলের লোহাগড়াসহ বিস্তৃর্ণ অঞ্চলের কৃষকদের কাছ থেকে প্রতি মণ পাটকাঠি ৪৫০ টাকা দরে ক্রয় করেন তিনি। এরপর তা মধুমতীর এলাংখালী ঘাটে জড়ো করে ট্রলারে বোঝাই করা হয়। প্রতি ট্রলারে এক হাজার ৮০০ মণ থেকে দুই হাজার মণ পাটকাঠি ধারণ করে, যা নদীপথে রওনা দেয় দূর-দূরান্তে। নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন পারটেক্স মিলে এই পাটকাঠি বিক্রি হয় প্রতি মণ ৫৫০ টাকা দরে। প্রতি কাউন (১৪০৮টি) পাটকাঠি ক্রয় করেন ৬০০ টাকা দরে আর বরিশালের পানচাষিদের বরজে বিক্রি তরেন ৭০০ টাকা দরে।

মহম্মদপুরের পাটকাঠি যাচ্ছে নারায়ণগঞ্জ ও বরিশালে

আপাতদৃষ্টিতে সাধারণ এই পাটকাঠি আজ দেশের বড় বড় কারখানার প্রধান কাঁচামাল। প্রতি চালানে সব খরচ বাদে জাফর মোল্যার লাভ থাকে প্রায় লাখ টাকা। নারায়ণগঞ্জে প্রতি বছর ১০ থেকে ১২ ট্রলার এবং বরিশালে ১২ থেকে ১৫ ট্রলার পাটকাঠি সরবরাহ করেন জাফর মোল্যা। বছরজুড়ে জাফর মোল্যা লাভের অংক বেশ বড়।

জাফর মোল্যার এই বিশাল উদ্যোগে ৪০ থেকে ৫০ জন শ্রমিকের প্রত্যক্ষ কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে। জাফর মোল্যার এই উদ্যোগের ফলে গ্রামীণ অর্থনীতির চাকা সচল থাকছে বছরজুড়ে।

নদী পথের এই বাণিজ্যের সাথে জড়িয়ে আছে বহু শ্রমজীবী মানুষের জীবন-জীবিকা। কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার রমনা ব্যাপারি পাড়ার ৫৮ বছর বয়সী চান মিয়া মাঝি ১৮-২০ বছর ধরে এই রুটেই ট্রলার চালাচ্ছেন। তিনি জানান, মধুমতীর এলাংখালী ঘাট থেকে নারায়ণগঞ্জ কিংবা বরিশালে পাটকাঠি পৌঁছাতে নদীপথে সময় লাগে পাঁচ থেকে ছয় দিন। এই দিনগুলোতে ট্রলারের সংকীর্ণ জায়গাতেই চলে তাদের রান্না, খাওয়া ও রাত্রিযাপন। নানা ঝুঁকি সত্ত্বেও এই নদীপথই তাদের আয়ের প্রধান উৎস।

ব্যবসায়িক সাফল্য ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা সম্পর্কে মো. জাফর মোল্যা সন্তুষ্টি প্রকাশ করে বলেন, “বহু বছর ধরে এই ব্যবসার সাথে যুক্ত আছি। এটি বেশ লাভজনক এবং এর মাধ্যমে বহু মানুষের সুদিন ফিরেছে।”

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

মিরসরাই ট্র্যাজেডির ১৫ বছর : স্বজনদের চোখে আজও অশ্রু

যশোরসহ ১৬ জেলায় ভারী বৃষ্টির আভাস

অমুসলিম রাষ্ট্রে ইসরাইলি পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ

চট্টগ্রাম অঞ্চলে পাহাড়ধসে মৃত্যু বাড়ছে

মরক্কোর বিদায়ে কান্নায় ভেঙে পড়লেন নোরা ফাতেহি

আজ বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস

কোয়ার্টার ফাইনালের দুই ম্যাচসহ টিভিতে আজকের খেলার সূচি

মহম্মদপুরের পাটকাঠি যাচ্ছে নারায়ণগঞ্জ ও বরিশালে

সেতুর অভাবে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলছে মানুষের পারাপার

ইসলামের পাঁচ ভিত্তি কী?

স্টারলিংকের সহায়তায় দেশে স্যাটেলাইটভিত্তিক মোবাইল সেবা

হিট স্ট্রোকের লক্ষণ ও প্রাথমিক চিকিৎসা

ব্ল্যাক কফির উপকারিতা ও অপকারিতা

১১ জুলাই: ইতিহাসের এই দিনে উল্লেখযোগ্য ঘটনা

স্পেনে ভয়াবহ দাবানলে নিহত ১২

শেষ মুহূর্তে মেরিনোর চমক, ২-১ গোলে বেলজিয়ামকে হারিয়ে সেমিফাইনালে স্পেন

দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের হামলা অব্যাহত

স্পেনের অপরাজিত রক্ষণ ভেঙে চার্লস ডি কেটেলারের জাদুকরী হেডারে সমতায় বেলজিয়াম

অবশেষে ভাঙল বেলজিয়ামের প্রতিরোধ / ইয়ামাল-ওলমো ম্যাজিকে ফাবিয়ান রুইজের গোলে এগিয়ে স্পেন

ইসরায়েলি হামলায় হামাসের শীর্ষ কমান্ডার নিহত

X