
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান থামেনি। বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় বিমান হামলা, ড্রোন হামলা, গুলিবর্ষণ এবং বসতবাড়ি ধ্বংসের ঘটনা ঘটেছে। এতে সীমান্তবর্তী এলাকায় নতুন করে আতঙ্ক ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, রাতভর দক্ষিণ লেবাননের একাধিক এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনী সামরিক অভিযান পরিচালনা করে। টাইর জেলার মানসুরি শহরের কাছে একটি ইসরায়েলি ড্রোন থেকে একটি স্টান গ্রেনেড নিক্ষেপ করা হয়। তবে এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া যায়নি।
একই রাতে টাইর জেলার বায়্যাদা এলাকা থেকে বিউত আল-সাইয়াদ অভিমুখে ইসরায়েলি সেনারা ভারী মেশিনগান দিয়ে গুলিবর্ষণ করে। এতে সীমান্তবর্তী এলাকায় নিরাপত্তা পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটে এবং স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ে।
লেবাননের জাতীয় বার্তা সংস্থা জানায়, মারজায়ুন জেলার খিয়াম এলাকার বিরকাত আল-হাম্মামের দিকে ইসরায়েলি ট্যাংক ও সামরিক যান অগ্রসর হয়। একই সময়ে খিয়াম শহরের আশপাশে ইসরায়েলি বাহিনীর সামরিক তৎপরতা অব্যাহত ছিল। এদিকে মারজায়ুন জেলার কানতারা এলাকায় ইসরায়েলি সেনারা কয়েকটি বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে একাধিক বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
অন্যদিকে বিন্ত জুবেইল জেলার ব্রাআশিত এলাকার আবাসিক পাড়াগুলো লক্ষ্য করে বেইত ইয়াহুন এলাকা থেকে ইসরায়েলি বাহিনী গুলি চালায়। গুলিতে কয়েকটি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। এসব হামলার মধ্যে এখন পর্যন্ত নতুন কোনো হতাহতের তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি হামলায় এখন পর্যন্ত ৪ হাজার ৩২১ জন নিহত এবং ১২ হাজার ২০৪ জন আহত হয়েছেন।
যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের ধারাবাহিক সামরিক অভিযান এবং সীমান্ত এলাকায় বাড়তে থাকা উত্তেজনা নতুন করে বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি করেছে। পরিস্থিতি ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগ বাড়ছে।
মন্তব্য করুন