
ইউক্রেনের ধারাবাহিক হামলার মুখেও রাশিয়ার নীতি বা সামরিক অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আসবে না বলে স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। সম্প্রতি রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে ইউক্রেনের হামলা বাড়ার পর তিনি বলেন, কিয়েভ যতই চেষ্টা করুক না কেন, মস্কোকে দুর্বল বা অস্থির করতে পারবে না।
ক্রেমলিন থেকে মন্ত্রিসভার ভার্চুয়াল বৈঠকে অংশ নিয়ে পুতিন বলেন, ইউক্রেনের হামলার উদ্দেশ্য রাশিয়ার অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করা এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করা। তবে বিশ্বের অন্যতম সহনশীল জ্বালানি ব্যবস্থা হিসেবে রাশিয়ার অবকাঠামো এসব হামলায় ভেঙে পড়বে না বলেও দাবি করেন তিনি।
পুতিন বলেন, শত্রুরা যে লক্ষ্য নিয়ে হামলা চালাচ্ছে, সেই লক্ষ্য তারা কখনোই অর্জন করতে পারবে না।
মস্কোর দাবি, রুশ বাহিনী পূর্ব ইউক্রেনের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ শহর কস্তিয়ানতিনিভকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। যদিও এ দাবির বিষয়ে ইউক্রেনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার কারণে আন্তর্জাতিক আলোচনায় ইউক্রেন যুদ্ধ কিছুটা আড়ালে চলে গেলেও যুদ্ধক্ষেত্রে রাশিয়া ও ইউক্রেনের সংঘর্ষ আরও তীব্র হয়ে উঠছে।
রাশিয়ার অভিযোগ, ক্রিমিয়ার পথে ইউক্রেনীয় হামলায় গত সপ্তাহে ৩৮ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং ২৭০ জন আহত হয়েছেন। মস্কো এ ঘটনাকে "সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড" হিসেবে অভিহিত করে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউক্রেনকে প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির লাইসেন্স দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন।
তুরস্কের আঙ্কারায় ন্যাটো সম্মেলনের ফাঁকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে ট্রাম্প বলেন, আমরা তোমাদের প্যাট্রিয়ট তৈরির লাইসেন্স দেব। কীভাবে বানাতে হয় তা বুঝিয়ে দিলে তোমরা খুব দ্রুতই উৎপাদন শুরু করতে পারবে।
প্যাট্রিয়ট বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। এটি শত্রুর ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আকাশেই ধ্বংস করতে সক্ষম। একটি পূর্ণাঙ্গ প্যাট্রিয়ট ব্যাটারির দাম প্রায় ১০০ কোটি ডলার। তবে এর উৎপাদন খুবই সময়সাপেক্ষ। যুক্তরাষ্ট্র বছরে মাত্র ৬০০টি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করে।
সমর বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়া ইউক্রেনে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বাড়িয়ে দেওয়ায় প্যাট্রিয়ট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এখন কিয়েভের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। গত সপ্তাহে রাজধানী কিয়েভে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কয়েক ডজন মানুষের প্রাণহানির ঘটনা এ প্রয়োজনীয়তাকে আরও স্পষ্ট করেছে।
উল্লেখ্য, ইউক্রেন এর আগেই যুক্তরাষ্ট্রের কাছে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির লাইসেন্স চেয়ে আবেদন করেছিল। বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের সাম্প্রতিক ঘোষণা সেই আবেদনের প্রতি ইতিবাচক ইঙ্গিত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
মন্তব্য করুন