
ইউরোপের দুই পরাশক্তি স্পেন ও বেলজিয়ামের মধ্যকার কোয়ার্টার ফাইনালের মহাযুদ্ধে অবশেষে ডেডলক ভাঙল। ম্যাচের শুরু থেকেই বেলজিয়ামের রক্ষণবুহ্য ভাঙার যে অনবদ্য চেষ্টা চালাচ্ছিল লা রোখারা, তা সফল হলো ম্যাচের এক চোখধাঁধানো আক্রমণে। ওয়ান্ডারকিড লামিন ইয়ামাল এবং দানি ওলমোর সাজানো আক্রমণ থেকে ফিরতি বলে লক্ষ্যভেদ করলেন স্প্যানিশ মিডফিল্ডার ফাবিয়ান রুইজ। কোর্তোয়ার অতিমানবীয় প্রচেষ্টা সত্ত্বেও স্পেনের এই ত্রিমুখী আক্রমণ রুখতে পারেনি রেড ডেভিলরা। এই গোলের পর ম্যাচে ১–০ ব্যবধানে লিড নিয়ে সেমিফাইনালের টিকিটের দিকে এক ধাপ এগিয়ে গেল লুইস ডে লা ফুয়েন্তের দল।
ইয়ামালের জাদুকরী রান ও ফাবিয়ান রুইজের গোল: যেভাবে এলো লিড ম্যাচের শুরু থেকেই টিকিটাকা পাসের মাধ্যমে মাঠের নিয়ন্ত্রণ রাখা স্পেন ডিফেন্স ভাঙার জন্য উইংয়ের গতিকে বেছে নেয়।
লামিন ইয়ামালের বিপজ্জনক ক্রস: রাইট উইং দিয়ে নিজের অতিপ্রাকৃতিক গতি আর ড্রিবলিংয়ের প্রদর্শনী দেখিয়ে বাইরের দিক থেকে দ্রুত এগিয়ে যান তরুণ তুর্কি লামিন ইয়ামাল। বেলজিয়ামের ডিফেন্ডারদের বোকা বানিয়ে পেনাল্টি বক্সের ভেতর তিনি এক নিখুঁত, নিচু ও অত্যন্ত বিপজ্জনক ক্রস বাড়ান।
ওলমোর শট ও কোর্তোয়ার ডিফেন্স: বক্সে থাকা দানি ওলমো প্রথম স্পর্শেই (ফার্স্ট টাচ) গোলপোস্ট লক্ষ্য করে এক জোরালো শট নেন। বেলজিয়ামের বিশ্বস্ত গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া দুর্দান্ত দক্ষতায় ওলমোর সেই শটটি প্রথমাংশে ঠেকিয়ে দেন।
ফাবিয়ান রুইজের ক্লিনিক্যাল ফিনিশিং: কোর্তোয়া শট ঠেকালেও বলটি পুরোপুরি ক্লিয়ার করতে পারেনি বেলজিয়ামের ডিফেন্স। রিবাউন্ড বলটি সরাসরি গিয়ে পড়ে ডি-বক্সে ওঁৎ পেতে থাকা ফাবিয়ান রুইজের পায়ে। কোনো ভুল না করে রুইজ ঠান্ডা মাথায় এক জোরালো শটে বল জালে জড়িয়ে দেন। ১-০ স্কোরলাইন হতেই স্প্যানিশ গ্যালারিতে শুরু হয় বাঁধভাঙা উল্লাস।
খেলোয়াড়দের কৃতিত্ব ও ব্যর্থতার বিশ্লেষণ
স্পেনের ত্রিমুখী আক্রমণের কৃতিত্ব: এই গোলটি স্পেনের আক্রমণভাগের দুর্দান্ত বোঝাপড়ার ফসল। ইয়ামালের নিখুঁত ক্রস জোগানো, ওলমোর চটজলদি পজিশনিং এবং ফাবিয়ান রুইজের রিবাউন্ড বল রিড করার ক্ষমতা, তিনটিই ছিল বিশ্বমানের। বিশেষ করে রুইজের নিখুঁত ফিনিশিং স্পেনের মাঝমাঠের কার্যকারিতা প্রমাণ করে।
কোর্তোয়ার একাকী লড়াই ও বেলজিয়ামের রক্ষণাত্মক ব্যর্থতা: বেলজিয়ামের গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়ার এখানে কোনো ভুল ছিল না, বরং ওলমোর শট ঠেকিয়ে তিনি তার সামর্থ্য দেখিয়েছেন। ব্যর্থতা ছিল বেলজিয়ামের সেন্ট্রাল ডিফেন্ডারদের, যারা কোর্তোয়ার সেভ করার পর রিবাউন্ড বলটি ক্লিয়ার করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হন এবং ফাবিয়ান রুইজকে আনমার্কড রেখে বক্সে শট নেওয়ার সুযোগ করে দেন।
কৌশলগত দ্বৈরথ ও মাঠের চিত্র ১-০ গোলে পিছিয়ে পড়ার পর বেলজিয়ামের অতি-রক্ষণাত্মক কৌশল এখন বড় ধাক্কা খেল। সেমিফাইনালে ফ্রান্সের মুখোমুখি হওয়ার স্বপ্ন টিকিয়ে রাখতে হলে রোমেলু লুকাকু ও ব্রুইনদের এখন রক্ষণাত্মক খোলস ছেড়ে অল-আউট আক্রমণে নামতে হবে। অন্যদিকে, লিড নেওয়া স্পেন চাইবে তাদের বল পজিশন ধরে রেখে বেলজিয়ামকে আরও চেপে ধরতে।
মন্তব্য করুন