
ফুটবল বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ওঠার মহাসংগ্রামে লস অ্যাঞ্জেলেস স্টেডিয়ামে আজ মুখোমুখি হয়েছে ইউরোপের দুই পরাশক্তি স্পেন এবং বেলজিয়াম। ১-০ গোলে পিছিয়ে পড়ার পর বিশ্বমঞ্চে বাঘের মতো গর্জে উঠল 'রেড ডেভিল' বেলজিয়াম। পুরো টুর্নামেন্টে একটি গোলও হজম না করা স্পেনের ইস্পাতকঠিন ডিফেন্সের অহংকার চূর্ণ করে দিল বেলজিয়ামের আক্রমণভাগ। ডান প্রান্ত থেকে আসা এক দুর্দান্ত ক্রসে মাথা ছুঁইয়ে নিখুঁত ‘ডাউনওয়ার্ড হেডার’-এ স্প্যানিশ গোলরক্ষক উনাই সিমনকে পরাস্ত করলেন চার্লস ডি কেটেলারে। ১-১ সমতায় ফিরে লস অ্যাঞ্জেলেসের মাঠ এখন এক রোমাঞ্চকর নাটমঞ্চে পরিণত হয়েছে।
স্পেনের রক্ষণ চূর্ণ: যেভাবে সমতায় ফিরল বেলজিয়াম
ম্যাচের শুরু থেকেই টিকিটাকা পাসের মাধ্যমে মাঠের নিয়ন্ত্রণ রাখা স্পেন প্রথমার্ধে ফাবিয়ান রুইজের গোলে লিড নিয়েছিল। তবে পিছিয়ে পড়ার পর রক্ষণাত্মক খোলস ছেড়ে অল-আউট ফুটবলের রণনীতি সাজায় বেলজিয়াম। স্পেনের বক্সের চারপাশজুড়ে শুরু হয় তাদের আক্রমণের মহড়া।
স্পেন ডিফেন্সের অসতর্কতা: পেনাল্টি বক্সের আশেপাশে বেলজিয়ামের খেলোয়াড়রা দীর্ঘ সময় ধরে বল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখেন। স্পেনের ডিফেন্ডাররা বারবার চেষ্টা করেও বল পুরোপুরি ক্লিয়ার করতে বা বিপদমুক্ত করতে ব্যর্থ হন। স্প্যানিশ ডিফেন্সের এই সাময়িক বিশৃঙ্খলার পুরো ফায়দা নেয় বেলজিয়াম।
ডি কেটেলারের নিখুঁত ফিনিশিং: আক্রমণের এক পর্যায়ে ডান প্রান্ত থেকে বক্সের ভেতর চমৎকার ও মাপা এক ক্রস বাড়ানো হয় চার্লস ডি কেটেলারের উদ্দেশ্যে। স্প্যানিশ ডিফেন্ডারদের কড়া পাহারা এড়িয়ে দারুণ টাইমিংয়ে শূন্যে লাফিয়ে ওঠেন তিনি। তার নেওয়া জোরালো ‘ডাউনওয়ার্ড হেডার’ মাটি ছুঁয়ে জালে জড়িয়ে যায়। স্প্যানিশ গোলরক্ষক উনাই সিমন ঝাঁপিয়ে পড়েও সেই বলের গতি রোধ করতে পারেননি। ২০২৬ বিশ্বকাপে এই প্রথম কোনো বল জড়াল স্পেনের জালে!
খেলোয়াড়দের কৃতিত্ব ও ব্যর্থতার বিশ্লেষণ
চার্লস ডি কেটেলারে ও বেলজিয়ামের ধৈর্য: ১-০ গোলে পিছিয়ে পড়ার পরও বেলজিয়াম দল মানসিক ভারসাম্য হারায়নি। বক্সে বল ধরে রেখে স্পেনের মতো বিশ্বসেরা ডিফেন্সকে চাপে ফেলার কৃতিত্ব তাদের প্রাপ্য। ডি কেটেলারের নিখুঁত পজিশনিং ও হেড করার দক্ষতা ছিল এক কথায় দুর্দান্ত।
স্পেনের রক্ষণভাগের প্রথম ব্যর্থতা: পুরো টুর্নামেন্টে গোল না খাওয়া স্পেনের রক্ষণভাগের মনোযোগে আজ বড় চির ধরল। নিজেদের বক্সের ভেতর বল ক্লিয়ার করতে না পারা এবং ডি কেটেলারে-কে আনমার্কড রাখা লা রোখাদের ডিফেন্সের বড় ব্যর্থতা। গোলরক্ষক উনাই সিমনেরও বলের লাইনে যাওয়ার সুযোগ ছিল কম।
ম্যাচের বর্তমান সমীকরণ
বেলজিয়ামের এই সমতাসূচক গোলের পর ম্যাচের মনস্তাত্ত্বিক নিয়ন্ত্রণ এখন রেড ডেভিলদের হাতে। প্রথম গোল হজম করে ধাক্কা খাওয়া স্পেন এখন তাদের মাঝমাঠের পুনর্গঠন করতে মরিয়া। সেমিফাইনালে ফ্রান্সের মুখোমুখি হওয়ার লড়াই এখন উন্মুক্ত। দুই দলের সামনেই সমান সুযোগ। লস অ্যাঞ্জেলেসের গ্যালারি এখন আরও একটি ঐতিহাসিক মহাকাব্যের সাক্ষী হওয়ার অপেক্ষায়।
মন্তব্য করুন