
হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার সীমান্তঘেঁষা রেমা চা-বাগান এলাকায় খোয়াই নদীর ওপর একটি স্থায়ী সেতুর অভাবে দীর্ঘদিন ধরে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন কয়েক হাজার মানুষ। প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নদী পার হতে বাধ্য হচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বর্ষা মৌসুমে এই দুর্ভোগ আরও তীব্র আকার ধারণ করে, ফলে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন চা-শ্রমিক, শিক্ষার্থী এবং জরুরি চিকিৎসাসেবার প্রয়োজন থাকা রোগীরা।
স্থানীয় চা-শ্রমিকরা জানান, প্রতিদিন কর্মস্থলে যেতে খোয়াই নদী পার হতে হয়। কিন্তু স্থায়ী সেতু না থাকায় সময়মতো কাজে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ে। বর্ষাকালে নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় পারাপার আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে।
একই সমস্যায় পড়ছেন স্কুল ও কলেজগামী শিক্ষার্থীরাও। প্রতিদিন নৌকায় নদী পার হতে গিয়ে তাদের জীবনের ঝুঁকি নিতে হচ্ছে। অনেক সময় ছোটখাটো দুর্ঘটনার ঘটনাও ঘটছে। এছাড়া গুরুতর অসুস্থ রোগীদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার ক্ষেত্রেও নদীটি বড় প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে খোয়াই নদীর ওপর একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণের দাবি জানানো হলেও এখন পর্যন্ত তা বাস্তবায়িত হয়নি। নির্বাচন এলেই জনপ্রতিনিধিদের প্রতিশ্রুতি মিললেও পরে আর দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি দেখা যায় না।
এদিকে সেতুর অভাবে কৃষক ও চা-বাগান সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরাও আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন। কৃষিপণ্য এবং চা-পাতা পরিবহনে অতিরিক্ত সময় ও ব্যয় গুনতে হচ্ছে, যা স্থানীয় অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আবেদ হোসেন বলেন, রেমা চা-বাগান এলাকা পর্যটন ও অর্থনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। খোয়াই নদীর ওপর একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ হলে শুধু স্থানীয় মানুষের যাতায়াত সহজ হবে না, বরং কৃষি, চা-শিল্প এবং পর্যটন খাতেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। একই সঙ্গে এলাকার সামগ্রিক জীবনমান উন্নত হবে।
এ বিষয়ে ১নং গাজীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী জানান, রেমা চা-বাগান এলাকায় খোয়াই নদীর ওপর একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণের উদ্যোগ শিগগিরই নেওয়া হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রত্যাশা, বহু বছরের এই দাবি এবার বাস্তবে রূপ নেবে এবং তাদের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটবে।
মন্তব্য করুন