
ইসরাইল অধিকৃত পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমের অবৈধ ইহুদি বসতি এলাকায় উৎপাদিত পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ করার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিল অনুমোদন করেছে আয়ারল্যান্ডের পার্লামেন্ট। এ তথ্য প্রকাশ করেছে টাইমস অব ইসরাইল।
এই বিল অনুমোদনের মাধ্যমে ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে ইসরাইলের দখলকৃত অঞ্চলগুলোর বিষয়ে কঠোর বাণিজ্যিক অবস্থান নেওয়া দেশগুলোর কাতারে যুক্ত হলো আয়ারল্যান্ড। এখন বিলটি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য দেশটির পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষে পাঠানো হবে।
‘ইসরাইলি বসতি’ শীর্ষক এই বিল অনুযায়ী, ইসরাইলের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সীমান্তের বাইরে অবস্থিত আবাসিক, কৃষি ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান থেকে উৎপাদিত কোনো পণ্য আয়ারল্যান্ডে আমদানি করা যাবে না। যদিও আয়ারল্যান্ড ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রথম দেশ হিসেবে এমন নিষেধাজ্ঞার উদ্যোগ নেয়, এর আগে ২০২৪ সালের অক্টোবরে স্পেনও একই ধরনের আমদানি সীমাবদ্ধতা কার্যকর করে।
অর্থনৈতিক দিক থেকে আয়ারল্যান্ডের এই আমদানি নিষেধাজ্ঞা মূলত প্রতীকী এবং এর প্রভাব খুবই সামান্য। কারণ, ২০২০ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ওই সব অঞ্চল থেকে আয়ারল্যান্ডে আমদানিকৃত ফল, শাকসবজি ও কাঠের মতো পণ্যের মোট বাণিজ্য মূল্য এক মিলিয়ন ইউরোর (১১ লাখ ডলার) চেয়েও কম ছিল।
তবে ডাবলিনের বিরোধী রাজনীতিকরা বিলটির সমালোচনা করে বলেছেন, এতে সেবাক্ষেত্রের বাণিজ্যকে অন্তর্ভুক্ত না করে শুধু পণ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়ায় এটি যথেষ্ট কার্যকর হবে না। এর জবাবে সরকার যুক্তি দিয়েছে যে, সেবাক্ষেত্রে বাণিজ্য নিষিদ্ধ করার বিষয়টি আইনি দিক থেকে পণ্যের চেয়ে বেশি জটিল, তাই আইনটি কার্যকর করার আগে এটিকে পুরোপুরি নিশ্ছিদ্র করা প্রয়োজন।
২০২৩ সালের অক্টোবরে হামাস-নেতৃত্বাধীন হামলার পর গাজায় ইসরাইলের সামরিক অভিযানের অন্যতম কড়া সমালোচক হিসেবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অবস্থান নেয় আয়ারল্যান্ড। ২০২৪ সালে দেশটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয়। এর প্রতিক্রিয়ায় ইসরাইলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিওন সার আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধে ‘চরম ইসরাইলবিরোধী নীতি’ অনুসরণের অভিযোগ তুলে ডাবলিনে ইসরাইলের দূতাবাস বন্ধ করার নির্দেশ দেন।
মন্তব্য করুন