
মেক্সিকোর মন্টেরেতে অবস্থিত স্টেডিয়ামে শনিবারের ম্যাচটি ছিল শুধুই একটি গ্রুপ পর্বের লড়াই নয়, বরং বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে এক অনন্য মাইলফলক। জাপান ও তিউনিসিয়ার এই মুখোমুখি লড়াইটি আনুষ্ঠানিকভাবে ফিফা বিশ্বকাপের ১০০০তম ম্যাচ হিসেবে রেকর্ডবুকে যুক্ত হয়েছে।
ফুটবলের সর্বোচ্চ আসর ফিফার এই দীর্ঘ যাত্রা শুরু হয়েছিল ১৯৩০ সালে উরুগুয়েতে, যেখানে মাত্র ১৩টি দল অংশ নিয়েছিল। প্রায় ৯৬ বছর পর এই টুর্নামেন্ট এখন বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রীড়া আসরে পরিণত হয়েছে।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে জাপান। প্রথমার্ধেই ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় তারা।
মাত্র চতুর্থ মিনিটেই আসে প্রথম গোল। দুর্দান্ত একটি দলগত আক্রমণে কেইতো নাকামুরা ডান দিক থেকে নিচু ক্রস বাড়ান, যা ক্রিস্টাল প্যালেস মিডফিল্ডার দাইচি কামাদা জোরালো শটে জালে পাঠান।
৩১তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন আয়াসে উয়েদা। তিউনিসিয়ার রক্ষণভাগের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে তিনি বক্সে ঢুকে নিখুঁত শটে বল পাঠান দূরের কোণে।
বিশ্বকাপের সম্প্রসারিত ৪৮ দলের ফরম্যাটে এটি গ্রুপ পর্বের দ্বিতীয় রাউন্ডের ম্যাচ। প্রথম ম্যাচে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ২-২ ড্র করা জাপান এই ম্যাচে আত্মবিশ্বাস নিয়ে নামে। অন্যদিকে সুইডেনের কাছে ৫-১ ব্যবধানে হারের পর ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষ্য ছিল তিউনিসিয়ার।
এই ঐতিহাসিক ম্যাচ উপলক্ষে বিশেষ কিট তৈরি করা হয় ম্যাচ অফিসিয়ালদের জন্য। ম্যাচ পরিচালনা করেন রোমানিয়ার রেফারি ইস্তভান কোভাচ, সহকারী হিসেবে ছিলেন মিহাই মারিকা ও ফেরেঞ্চ তুনিওগি। চতুর্থ রেফারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন কোস্টারিকার হুয়ান ক্যালদেরন।
ফিফার প্রধান রেফারিং কর্মকর্তা পিয়েরলুইজি কলিনা এই বিশেষ ম্যাচের গুরুত্ব তুলে ধরে জানান, সোনালি নকশা ও বিশেষ ব্যাজযুক্ত কিট ব্যবহার করা হয়েছে এই ঐতিহাসিক উপলক্ষকে স্মরণীয় করতে।
ফুটবল বিশ্বকাপের বিস্তারে অংশগ্রহণকারী দেশের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ১৯৩০ সালে যেখানে অল্প কয়েকটি দেশ অংশ নিত, সেখানে আসন্ন আসরগুলোর বাছাইপর্বে শতাধিক দেশ অংশ নিচ্ছে।
এই প্রসঙ্গে জাপানের কোচ হাজিমে মোরিয়াসু বলেন, এই ঐতিহাসিক ম্যাচে অংশ নেওয়া তাদের জন্য গর্বের। তিনি ম্যাচটিকে স্মরণীয় করার আশা প্রকাশ করেন।
তিউনিসিয়ার অধিনায়ক এলিয়েস স্কিরি বলেন, বিশ্বকাপের ১০০০তম ম্যাচে খেলা তাদের জন্য বিশেষ সম্মানের বিষয়, যা প্রতিযোগিতার ইতিহাসকে আরও অর্থবহ করে।
ম্যাচটি মাঠে উপভোগ করার জন্য উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে জাপানের রাজকুমারী তাকামাদো এবং জিয়ান্নি ইনফান্তিনো।
এই ম্যাচটি শুধু একটি খেলা নয়, বরং বিশ্ব ফুটবলের দীর্ঘ ইতিহাস, অগ্রগতি এবং বৈশ্বিক বিস্তারের এক প্রতীকী উদযাপন হিসেবে স্থান করে নিয়েছে।
মন্তব্য করুন