
দক্ষিণ ও পূর্ব ইসরায়েল–লেবানন সীমান্ত এলাকায় ধারাবাহিক বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী (ইসরায়েল প্রতিরক্ষা বাহিনী বা আইডিএফ)। শনিবার বিকাল পর্যন্ত চলা এই অভিযানে অন্তত ২৭ জন নিহত এবং আরও ২৬ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে লেবাননের গণমাধ্যম ও জরুরি সেবাকর্মীরা।
আইডিএফ দাবি করেছে, এই অভিযান মূলত ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহকে লক্ষ্য করে পরিচালিত হয়েছে। তাদের অভিযোগ, যুদ্ধবিরতির মাত্র একদিন পরই হিজবুল্লাহ ইসরায়েলি সেনাদের ওপর হামলা চালিয়ে চুক্তি ভঙ্গ করেছে।
আইডিএফ জানিয়েছে, তারা রাজনৈতিক নেতৃত্বের নির্দেশনা অনুযায়ী যুদ্ধবিরতি চুক্তি মেনে চলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এক সামরিক কর্মকর্তা বলেন, প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ আইডিএফকে লেবাননে “গুলি বন্ধ রাখার” নির্দেশ দিয়েছেন।
এদিকে ইসরায়েলের চ্যানেল ১২ নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও যুক্তরাষ্ট্রের সমন্বয়ের পর এই নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, নেতানিয়াহু স্পষ্ট করেছেন যে ইসরায়েল তার উত্তর সীমান্ত সুরক্ষার প্রয়োজনে দক্ষিণ লেবাননে অবস্থান বজায় রাখবে।
ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, আইডিএফকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে—হিজবুল্লাহর যেকোনো হামলার জোরালো জবাব দিতে এবং ইসরায়েলি বাহিনীর ওপর থাকা হুমকি দ্রুত নিষ্ক্রিয় করতে।
বিবৃতিতে দাবি করা হয়, গত দুই দিনে হিজবুল্লাহর হামলার জবাবে আইডিএফ প্রায় ৩০০টি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে এবং প্রায় ১০০ জনকে হত্যা করেছে।
ইসরায়েলি কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, হিজবুল্লাহ আবার হামলা চালালে আরও কঠোর সামরিক প্রতিক্রিয়া দেওয়া হবে।
আইডিএফ তাৎক্ষণিকভাবে নিজেদের কোনো হতাহতের তথ্য প্রকাশ করেনি। তবে তারা বলছে, এসব হামলা যুদ্ধবিরতি চুক্তির “ধারাবাহিক লঙ্ঘনের” জবাবে চালানো হয়েছে।
মন্তব্য করুন