
চুক্তি অনুযায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও গাজা উপত্যকায় থেমে নেই ইসরায়েলি হামলা। শনিবার (২০ জুন) নতুন করে চালানো একাধিক বিমান ও স্থল হামলায় দুই শিশু ও কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক ক্যামেরাম্যানসহ অন্তত ছয়জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
শনিবার সন্ধ্যায় মধ্য গাজার বুরেইজ শরণার্থী শিবিরে একটি আবাসিক বাড়িতে কোনো ধরনের সতর্কবার্তা ছাড়াই বোমা হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। এতে আল জাজিরার ক্যামেরাম্যান আহমেদ উইশাহসহ তিনজন নিহত হন।
আল জাজিরা কর্তৃপক্ষ সাংবাদিক আহমেদ উইশাহর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, এর আগে চলতি বছরের এপ্রিল মাসে তার ভাই এবং আল জাজিরার সংবাদদাতা মোহাম্মদ উইশাহও ইসরায়েলি হামলায় নিহত হয়েছিলেন।
এর আগে শনিবার ভোররাত ২টার দিকে গাজা শহরের একটি আবাসিক অ্যাপার্টমেন্টে বিমান হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। এতে চার বছর বয়সী জিনা এবং ১৪ বছর বয়সী লানা নামে দুই বোন নিহত হয়।
নিহতদের চাচাতো ভাই মোহাম্মদ সাফাদি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা সাধারণ মানুষ, বাড়িতে বসে ছিলাম। হঠাৎ রকেট এসে আমাদের ওপর পড়ে। আমরা কখনো অস্ত্র হাতে নিইনি। তাহলে এই যুদ্ধবিরতি আসলে কী?”
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা ঘটনাটি খতিয়ে দেখছে। পাশাপাশি এক বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে, আল জাজিরার ক্যামেরাম্যান আহমেদ উইশাহকে “সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যভিত্তিক হামলায়” হত্যা করা হয়েছে, কারণ তিনি নাকি হামাসের সামরিক শাখার সদস্য ছিলেন এবং ইসরায়েলি সেনাদের জন্য হুমকি তৈরি করেছিলেন।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর এই যুদ্ধ শুরু হয়। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলমান সংঘাত ও যুদ্ধবিরতির সময় মিলিয়ে এখন পর্যন্ত ইসরায়েলি হামলায় গাজায় ৭৩,০০০-এরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের প্রায় অর্ধেক নারী ও শিশু।
মন্তব্য করুন