
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক দাতব্য সংস্থা ডিরেক্ট রিলিফ থেকে বায়োলজিক ড্রাগ অ্যাডালিমুমাবের দ্বিতীয় চালান এসে পৌঁছেছে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকালে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ৬৯৬টি সিরিঞ্জ গ্রহণ করেছে বলে রামেক হাসপাতালের মুখপাত্র শংকর কে বিশ্বাস বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, এই অত্যন্ত ব্যয়বহুল ওষুধটি রামেক হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ল্যাবরেটরি-নিশ্চিত অ্যাংকাইলোজিং স্পন্ডাইলাইটিস, রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস, সোরিয়াটিক আর্থ্রাইটিস, ইনফ্ল্যামেটরি বাওয়েল ডিজিজসহ কয়েকটি জটিল রোগে আক্রান্ত রোগীদের বিনামূল্যে দেওয়া হবে।
রামেক হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ডা. মো. আজিজুল হক আজাদ রোগী নির্বাচন ও ওষুধ প্রয়োগ কার্যক্রম তদারকি করবেন। রোগের ধরন, পরীক্ষার ফলাফল এবং চিকিৎসা নির্দেশনা অনুযায়ী উপযুক্ত রোগীদের এই ওষুধ দেওয়া হবে।
হাসপাতাল সূত্র আরও জানায়, অধ্যাপক ডা. মো. আজিজুল হক আজাদের সরাসরি সম্পৃক্ততা এবং হাসপাতাল পরিচালকের সহযোগিতায় ডিরেক্ট রিলিফের এ সহায়তা রামেকে পৌঁছেছে।
রামেক হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শংকর কুমার বিশ্বাস জানান, বৃহস্পতিবার সকালেই বায়োলজিক ড্রাগ অ্যাডালিমুমাবের ৬৯৬ সিরিঞ্জ ওষুধ এসে পৌঁছেছে হাসপাতালে। এর দাম প্রায় ২৮ কোটি টাকা। নির্ধারিত নীতিমালা অনুযায়ী যোগ্য রোগীদের বিনামূল্যে এ ওষুধ দেওয়া হবে। উচ্চমূল্যের কারণে সাধারণ রোগীদের পক্ষে এ ওষুধ গ্রহণ করা কঠিন। ফলে বিনামূল্যে এ ওষুধ পাওয়ার সুযোগ রোগীদের জন্য বড় সহায়তা হিসেবে বিবেচিত হবে।
তিনি আরও জানান, ল্যাবোরেটরি কনফার্মড অ্যাংকাইলোজিং স্পন্ডাইলাইটিস, রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস, সোরিয়াটিক আর্থ্রাইটিস, ইনফ্লামেটরি বাওয়েল ডিজিজসহ আরও কিছু অসুখে আক্রান্ত অবস্থায় ভর্তি থাকা রোগীদের অত্যন্ত দামি ওষুধটি বিনা মূল্যে দেওয়া হবে। কোন রোগীর ক্ষেত্রে এই ওষুধ প্রয়োগ করা যাবে তা তদারকি করবেন অধ্যাপক আজিজুল হক আজাদ।
‘ডিরেক্ট রিলিফ’ একটি আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তা সংস্থা। তাদের প্রধান কাজ হলো বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জরুরি স্বাস্থ্যসেবা ও চিকিৎসা সহায়তা পৌঁছে দেওয়া। সংস্থাটি নগদ অর্থ দেওয়ার পরিবর্তে সরাসরি চিকিৎসা সহায়তা দেয়, যাতে অপচয় কম হয় এবং প্রকৃত রোগীরা দ্রæত উপকৃত হয়।
এর আগে গত মার্চে ডা. আজিজুল হক আজাদ ডিরেক্ট রিলিফ থেকে প্রায় ১০০ কোটি টাকার ওষুধ আনেন। এ ছাড়া গত বছরের নভেম্বরে তিনি এই সংস্থা থেকে প্রায় ৩৬ কোটি টাকার ওষুধ আনেন। আর গত বছরের আগস্টে হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসক শীর্ষ শ্রেয়ান হৃদরোগীদের জন্য আনেন প্রায় ১৭ কোটি টাকার অ্যাল্টেপ্লেস। এসব ওষুধ বিনা মূল্যে দেওয়া হচ্ছে।
মন্তব্য করুন
১০ জুন ২০২৬, ০৬:৫৬ পিএম
১১ জুন ২০২৬, ১০:৪৪ এএম