
যশোরের ঝিকরগাছা থানার সাবেক দুই উপ-পরিদর্শক (এসআই) এর বিরুদ্ধে মামলা তদন্তে অনিয়ম, ঘুষ গ্রহণ, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং ভূমিদস্যুদের পক্ষ নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত ব্যাহত করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী মুর্শিদা আক্তার রেনুকা যশোরের পুলিশ সুপারের কাছে ডাকযোগে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগকারী মুর্শিদা আক্তার রেনুকা ঝিকরগাছা উপজেলার শিওরদাহ গ্রামের বাসিন্দা।
লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৫ সালের ১৩ মার্চ পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে প্রবাসী ইসমাইল গাজী ও তার সহযোগীরা তাদের বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় নির্মাণাধীন রান্নাঘর ভাঙচুর করা হয় এবং ধারালো অস্ত্রের আঘাতে মুর্শিদা আক্তার রেনুকা গুরুতর আহত হন। পরে তাকে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তার মাথায় আটটি শেলায় দিতে হয়।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, হামলার সময় ঘটনাস্থলে তৎকালীন ঝিকরগাছা থানার অন্তর্গত শিওরদাহ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই বেলাল হোসেন উপস্থিত থাকলেও তিনি কোনো কার্যকর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশে মামলাটি থানায় এজাহার হিসেবে রেকর্ড করা হলে তদন্তের দায়িত্ব পান এসআই বেলাল হোসেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি মামলাটি প্রত্যাহারের জন্য বাদীপক্ষকে চাপ প্রয়োগ করেন এবং চার্জশিটের নামে অর্থ গ্রহণ করেন।
পরে মামলাটির তদন্তভার দেওয়া হয় এসআই জি এম ইমরান হোসেন রাজুকে। অভিযোগকারীর দাবি, তিনিও পূর্ববর্তী তদন্ত কর্মকর্তার প্রভাব ও নির্দেশনায় একই ধরনের আচরণ করেন। মামলার আট আসামির মধ্যে পাঁচজনকে অব্যাহতি দিয়ে মাত্র তিনজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ঘটনার পর মুর্শিদা আক্তার রেনুকা যশোর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকলেও চার্জশিটে ঝিকরগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা সনদ ব্যবহার করা হয়েছে। এছাড়া অভিযুক্ত পক্ষের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের নিরপেক্ষ সাক্ষী হিসেবে উপস্থাপন করা হলেও এজাহারভুক্ত গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীদের বক্তব্য যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়েছে। মুর্শিদা আক্তার রেনুকা পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এ বিষয়ে এসআই শিওরদাহ ক্যাম্পের ইনচার্জ বেলাল হোসেন বলেন, রেনুকার মামলার আগে প্রতিপক্ষরা রেনুকার বিরুদ্ধে মামলা হয়। ওই মামলার তিনি তদন্ত কর্মকর্তা ছিলেন। সেজন্য অপর পক্ষের সাথে তার কথা হয়েছিলো। তিনি প্রথমে ওই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হলেও একমাস পর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন করা হয়। এরপরই রাজু ওই মামলাটি তদন্ত করেন। এছাড়া তিনি আরও বলেন, ঘটনার সময় তিনি যশোর আদালতে স্বাক্ষী দিতে গিয়েছিলেন। এ বিষয়ে তৎকালীন এসআই ইমরান হোসেন রাজুর সাথে কথা বললে তিনি বলেন, এ মামলাটি পুলিশ ও পিবিআই তদন্ত করে একই রিপোর্ট দিয়েছে। এখন মামলাটি সিআইডি তদন্ত করছে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ অস্বীকার করেন।
অভিযোগপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, এসআই বেলাল হোসেন এখনো শিওরদাহ পুলিশ ক্যাম্পে কর্মরত। অন্যদিকে, তার বিরুদ্ধে এক বছরে নানা ধরনের অভিযোগ উঠে। সম্প্রতি সরকারী রড চুরির ঘটনায় চোরের পক্ষ নিয়ে টাকা হাতানোর অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে । এছাড়াও, এসআই জি এম ইমরান হোসেন রাজু বর্তমানে চৌগাছা থানায় কর্মরত রয়েছেন। সম্প্রতি এক প্রবাসীর স্ত্রীকে আটকের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এক ইউপি সদস্যের বাড়িতে গিয়ে গ্রামবাসীদের মামলায় জড়ানোর হুমকি দেওয়ার অভিযোগও ওঠে। এসব অভিযোগ নিয়ে স্থানীয় গণমাধ্যমেও সংবাদ প্রকাশিত হয়।
মন্তব্য করুন
১০ জুন ২০২৬, ০৪:১৫ পিএম
১০ জুন ২০২৬, ০৩:৩৭ পিএম