
জাতীয় সংসদকে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ আদায়ে বাংলাদেশ ব্যাংক একাধিক নীতিগত পদক্ষেপ নিয়েছে। যেসব ঋণগ্রহীতা সময়মতো ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হয়েছেন, তাদের ঋণ আদায়ে নীতি সহায়তা দেওয়া হয়েছে। খেলাপি ঋণ আদায়ে সরকার নতুন পরিকল্পনা নিয়েছে বলে তিনি জানান। তিনি বলেন, শ্রেণিকৃত ঋণের হার বেশি- এমন ব্যাংকের জন্য বিশেষ রেজল্যুশন স্ট্র্যাটেজি গাইডলাইন করা হয়েছে। ইচ্ছাকৃত খেলাপি শনাক্ত ও তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ২০২৪ সালের ১২ মার্চ জারি করা নীতিমালাও কার্যকর রয়েছে। প্রতিটি ব্যাংকার্স সভায় শীর্ষ ২০ খেলাপি ঋণের আদায়ের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হচ্ছে এবং যেসব ব্যাংকে শ্রেণিকৃত ঋণের হার ১০ শতাংশের বেশি, সেগুলোকে বিশেষ তদারকিতে রাখা হয়েছে। বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি বা এডিআরের মাধ্যমে ২০২৬ সালের ৩০ জুনের মধ্যে প্রত্যেক ব্যাংকের খেলাপি ঋণের অন্তত ১ শতাংশ নগদ আদায়ের লক্ষ্যও নির্ধারণ করা হয়েছে। ব্যাংক খাতকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে খেলাপি ও ইচ্ছাকৃত খেলাপি ঋণগ্রহীতাদের তালিকা প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে সংসদে জানান অর্থমন্ত্রী। এছাড়া একজন ঋণগ্রহীতা পুরো ব্যাংকিং খাত থেকে সর্বোচ্চ কত ঋণ নিতে পারবেন, তার সীমা নির্ধারণ, ভালো ঋণগ্রহীতাদের জন্য প্রণোদনা নীতিমালা হালনাগাদ, অর্থঋণ আদালতের বিচার প্রক্রিয়ায় অভিজ্ঞ ব্যাংকার যুক্ত করা এবং খেলাপিদের রিট আবেদনের মাধ্যমে ঋণ আদায় কার্যক্রম স্থগিত করার সুযোগ সীমিত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এক হাজার কোটি টাকার বেশি অর্থায়নের ক্ষেত্রে ব্যাংক ঋণের পরিবর্তে বন্ড ইস্যুর মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহে উৎসাহিত করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। বেসরকারি খাতে অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি (এএমসি) প্রতিষ্ঠার জন্য আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান অর্থমন্ত্রী। আমরা চাই, খেলাপি ঋণ আদায়ে বাস্তবসম্মত ও আরও কার্যকর উদ্যোগ নেয়া হোক।
মন্তব্য করুন
১০ জুন ২০২৬, ০৪:১৫ পিএম
১০ জুন ২০২৬, ০৩:৩৭ পিএম