
রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ-দ্বীন হাসপাতালে চিকিৎসা অবহেলা ও অনিয়মের অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির লাইসেন্স বাতিল করেছে সরকার। সম্প্রতি হাসপাতালটিতে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেল সাড়ে ৩টায় স্বাস্থ্য অধিদফতরের আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক জানান, আদ-দ্বীন হাসপাতালকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছিল। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দেওয়া জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় তাদের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, যেহেতু হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিল হয়েছে, তাই এই মুহূর্ত থেকে প্রতিষ্ঠানটি কোনো ধরনের স্বাস্থ্যসেবা দিতে পারবে না। নতুন রোগী ভর্তি করারও অনুমতি থাকবে না।
লাইসেন্স বাতিলের পর সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। তবে বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি থাকা রোগীদের বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করা হচ্ছে।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক জানান, বর্তমানে ভর্তি থাকা রোগীদের দ্রুত লাইসেন্সপ্রাপ্ত অন্যান্য হাসপাতালে স্থানান্তরের দায়িত্ব হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ওপর বর্তাবে।
তিনি আরও বলেন, "বর্তমান পরিস্থিতিতে যদি কেউ আমাদের কাছে সহায়তা চান, তাহলে মানবিক দিক বিবেচনায় স্বাস্থ্য অধিদফতর প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে।"
এর আগে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল আদ-দ্বীন হাসপাতালের জবাব নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দেওয়া জবাব আমরা পর্যালোচনা করেছি। প্রয়োজনীয় তথ্যের বাইরে সেখানে অনেক অপ্রাসঙ্গিক বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে, যা আমাদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। সামগ্রিকভাবে তাদের জবাবে আমি সন্তুষ্ট নই।
গত ২৭ মে সকাল ৬টা থেকে ৯টার মধ্যে রাজধানীর মগবাজারের আদ-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যু হয়। ঘটনাটি দেশব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টি করলে প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে।
একই সঙ্গে হাসপাতালটির লাইসেন্স কেন বাতিল করা হবে না, সে বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে প্রতিষ্ঠানটির মালিক শেখ মহিউদ্দিনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। নোটিশে ৭ জুন বিকেল ৫টা পর্যন্ত ৭২ ঘণ্টার সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছিল।
মন্তব্য করুন