
রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার লোহানীপাড়া ইউনিয়নের কাঁচাবাড়ি চৌপতিরহাট পশ্চিমপাড়া এলাকায় এক তরুণীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণার অভিযোগকে কেন্দ্র করে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, থানায় লিখিত অভিযোগ দায়েরের পর স্থানীয়ভাবে অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে ঘটনাটি আপস-মীমাংসা করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী তরুণীর বাবা মো. মোস্তাকিম বদরগঞ্জ থানায় দায়ের করা লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন, প্রতিবেশী খাদিমুল ইসলামের ছেলে ফেরদৌস মিয়া (২২) দীর্ঘদিন ধরে তার মেয়েকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে সম্পর্ক গড়ে তোলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, একপর্যায়ে তরুণীকে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন করে নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখেন। অভিযোগে আরও দাবি করা হয়েছে, বিভিন্ন ধরনের কবিরাজি বা যাদুটোনার মাধ্যমে তরুণীর শারীরিক ও মানসিক ক্ষতি করা হয়েছে। তবে এ দাবির পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
অভিযোগে বলা হয়, বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর ভুক্তভোগী পরিবার অভিযুক্তের পরিবারের কাছে বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে গেলেও তারা তাতে সাড়া দেয়নি। পরে অভিযুক্ত এলাকা ছেড়ে চলে যান বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তারা স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিসের উদ্যোগ নিলেও অভিযুক্ত পক্ষ তাতে অংশ নেয়নি। পরে গত ২৯ জুন অভিযুক্তের বাড়িতে গিয়ে বিয়ের বিষয়ে কথা বলতে গেলে তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার, মারধর এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এরপর বদরগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন মোস্তাকিম।
অভিযোগ দায়েরের পর মামলাটি আইনি প্রক্রিয়ায় যাওয়ার আগেই স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল উভয় পক্ষকে নিয়ে বৈঠকের আয়োজন করে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা। তাদের অভিযোগ, ওই বৈঠকে অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে বিষয়টি আপস-মীমাংসা করা হয় এবং থানায় দেওয়া অভিযোগ কার্যত নিষ্ক্রিয় হয়ে যায়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা অভিযোগ করেন, এমন আপসের সংস্কৃতির কারণে ভুক্তভোগীরা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হন এবং অভিযুক্তরা ভবিষ্যতে আরও অপরাধে উৎসাহিত হতে পারেন। তাদের দাবি, স্থানীয় এক ব্যক্তির মধ্যস্থতায় এ সমঝোতা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হয়নি।
ভুক্তভোগী তরুণীর বাবা মোস্তাকিম সাংবাদিকদের বলেন, মেয়ের চিকিৎসার জন্য তিনি অর্থ গ্রহণ করেছেন। তার ভাষ্য, তিনি এক লাখ ২০ হাজার টাকা দাবি করেছিলেন। পরে ৭০ হাজার টাকা লেনদেন হলেও তিনি হাতে পেয়েছেন ৬০ হাজার টাকা। বাকি ১০ হাজার টাকা বিভিন্ন খাতে ব্যয় হয়েছে বলে দাবি করেন।
এ বিষয়ে বদরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান জাহিদ সরকার সাংবাদিকদের বলেন, অর্থ লেনদেনের বিষয়টি তার জানা নেই। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন
০৬ জুলাই ২০২৬, ০৯:৪৯ পিএম
০৬ জুলাই ২০২৬, ১০:০০ পিএম
০৬ জুলাই ২০২৬, ১০:০৩ পিএম
০৭ জুলাই ২০২৬, ০১:৩৯ এএম
০৭ জুলাই ২০২৬, ০৩:২৩ এএম