
বিশ্বকাপ ফুটবলের মঞ্চে ইউরোপের দুই পরাশক্তি স্পেন ও পর্তুগালের মধ্যকার হাইভোল্টেজ নকআউট লড়াইটি প্রথমার্ধ শেষে গোলশূন্য সমতায় শেষ হয়েছে। তিকিতাকা আর কাউন্টার অ্যাটাকিং ফুটবলের দুর্দান্ত প্রদর্শনীতে প্রথমার্ধের পুরোটা সময় মাঠের আবহ ছিল টানটান। তবে দুই দলের আক্রমণভাগের একাধিক চমৎকার প্রচেষ্টা সত্ত্বেও জালের দেখা মেলেনি শুধু দুই পোস্টের নিচে থাকা দুই গোলরক্ষকের অতিমানবীয় পারফরম্যান্সের কারণে। দিওগো কোস্তা ও উনাই সিমনের অনবদ্য জোড়া সেভের ওপর ভর করেই ০-০ ব্যবধানে বিরতিতে গেছে দুই দল।
কোস্তা ও সিমনের ডাবল সেভ ম্যাজিক: প্রথমার্ধের মূল আকর্ষণ ম্যাচের প্রথম ৪৫ মিনিটে দুই দলেরই রক্ষণভাগ ও আক্রমণভাগের খেলোয়াড়দের সাফল্য-ব্যর্থতার চিত্র ছিল বেশ স্পষ্ট।
দিওগো কোস্তার প্রাচীর (পর্তুগাল): ম্যাচের ১৭তম মিনিটে স্পেনের রদ্রি মাঝমাঠ থেকে বল বাড়িয়ে দেন ডানপ্রান্তে থাকা লামিন ইয়ামালের কাছে। ইয়ামালের নেওয়া বাঁ পায়ের জোরালো শট প্রথম দফায় রুখে দেন পর্তুগিজ গোলরক্ষক দিওগো কোস্তা। ফিরে আসা বলে আলেক্স বায়েনা আবার শট নিলেও দ্বিতীয় প্রচেষ্টায় অবিশ্বাস্য এক ডাইভ দিয়ে পর্তুগালকে নিশ্চিত গোলের হাত থেকে রক্ষা করেন কোস্তা। চাপের মুখে তার এই ডাবল সেভ পর্তুগালকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখে।
উনাই সিমনের পাল্টা জবাব (স্পেন): পর্তুগাল যখন কাউন্টার অ্যাটাক থেকে স্পেনের ডিবক্সে প্রবল চাপ তৈরি করে, তখন স্প্যানিশদের ত্রাণকর্তা হিসেবে আবির্ভূত হন উনাই সিমন। পর্তুগিজ ফরোয়ার্ডদের পর পর দুটি জোরালো শট জাদুকরী দক্ষতায় নস্যাৎ করে দিয়ে নিজের দলকে ম্যাচে সমতায় রাখেন এই স্প্যানিশ গোলরক্ষক।
আক্রমণভাগের ফিনিশিং ব্যর্থতা: দুই দলের মাঝমাঠ ও উইঙ্গাররা গোল করার দারুণ সুযোগ তৈরি করলেও বক্সের ভেতর ফরোয়ার্ডদের চূড়ান্ত ফিনিশিংয়ের অভাব ও শটে নিখুঁত জাজমেন্ট না থাকা ছিল প্রথমার্ধের বড় ব্যর্থতা। বিশেষ করে রিবাউন্ড বল থেকে বায়েনার সুযোগ হাতছাড়া করা স্প্যানিশ শিবিরকে হতাশ করেছে।
বিরতির রণকৌশল ও দ্বিতীয় অর্ধে চোখ
হাইড্রেশন ব্রেকের পর দুই দলই কিছুটা রক্ষণাত্মক কৌশলে খেলা নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করে। প্রথমার্ধের এই গোলশূন্য সমতা দুই দলের কোচকেই ডাগআউটে নতুন করে ভাবনার সুযোগ করে দিয়েছে। দ্বিতীয়র্ধে বেঞ্চ থেকে কোনো সুপারসাব নামিয়ে ডেডলক ভাঙা যায়, এখন সেটাই দেখার বিষয়। রেফারি শেষ বাঁশি বাজার আগে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পর্তুগাল নাকি তরুণ স্প্যানিশ আর্মাডারা শেষ আটের টিকিট কাটে, তা দেখতে ফুটবলপ্রেমীরা রুদ্ধশ্বাস অপেক্ষা করছেন।
মন্তব্য করুন