
দুর্দান্ত লড়াই, নাটকীয়তায় ভরপুর এক ম্যাচে স্বাগতিক মেক্সিকোকে ৩-২ গোলে হারিয়ে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে গেছে ইংল্যান্ড। ম্যাচের শেষ ৩৬ মিনিটের বেশি সময় ১০ জন নিয়ে খেলেও জয় ধরে রাখে থমাস টুখেলের দল।
মেক্সিকো সিটি স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরু থেকেই কার্যকর ফুটবল খেলেছে ইংল্যান্ড। ৩৬ ও ৩৮ মিনিটে জোড়া গোল করে দলকে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন জুড বেলিংহ্যাম। তবে বিরতির ঠিক আগে জুলিয়ান কিনোনেসের দারুণ এক ভলিতে ব্যবধান কমিয়ে ম্যাচে ফেরে স্বাগতিকরা।
দ্বিতীয়ার্ধের ৫৪তম মিনিটে ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়। ভিএআর পর্যালোচনার পর জেসুস গায়ার্দোর ওপর বিপজ্জনক ট্যাকলের অভিযোগে ইংল্যান্ডের ডিফেন্ডার জ্যারেল কোয়ানসাহকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান রেফারি। ফলে বাকি সময় ১০ জন নিয়ে খেলতে হয় ইংল্যান্ডকে।
তবে সংখ্যায় পিছিয়ে পড়েও ৬০তম মিনিটে আবারও ব্যবধান বাড়ায় থ্রি লায়ন্স। অ্যান্থনি গর্ডনকে বক্সের ভেতর ফাউল করায় পেনাল্টি পায় ইংল্যান্ড। স্পট-কিক থেকে নির্ভুল শটে গোল করেন অধিনায়ক হ্যারি কেইন।
কিছুক্ষণ পর ভিএআরের সাহায্যে পেনাল্টি পায় মেক্সিকোও। বক্সে হ্যান্ডবলের দায়ে কেইনের বিরুদ্ধে সিদ্ধান্ত যায়, আর সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে রাউল হিমেনেস ১২ গজ থেকে গোল করে ব্যবধান ৩-২ করেন।
এরপর পুরো ম্যাচজুড়েই একের পর এক আক্রমণ চালায় মেক্সিকো। কিন্তু ইংল্যান্ডের রক্ষণভাগ ও গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ড দৃঢ়তার সঙ্গে সব চাপ সামাল দেন। শেষ পর্যন্ত সমতার গোল আর আদায় করতে পারেনি স্বাগতিকরা।
এই হারের মধ্য দিয়ে ১৯৮৬ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন ভেঙে যায় মেক্সিকোর। ম্যাচ শেষে স্বাগতিক দলের অনেক খেলোয়াড়কে চোখের জল ফেলতে দেখা যায়।
অন্যদিকে, ১৯৮৬ সালে দিয়েগো ম্যারাডোনার বিতর্কিত 'হ্যান্ড অব গড' গোলের স্মৃতি পেছনে ফেলে এবার একই ভেন্যুতে জয় তুলে নিয়ে নতুন ইতিহাস গড়লো ইংল্যান্ড। কোয়ার্টার ফাইনালে আগামী শনিবার মিয়ামিতে আর্লিং হালান্ডের নরওয়ের মুখোমুখি হবে থ্রি লায়ন্সরা।
মন্তব্য করুন