
বিশ্বকাপ ফুটবলের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার হাইভোল্টেজ ম্যাচে নাটকীয়তার পর এবার চরম পেনাল্টি ট্র্যাজেডির সাক্ষী হলো পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। ম্যাচের শুরুতেই নরওয়ের একটি গোল অফসাইডের কারণে বাতিল হওয়ার পর ধাক্কা সামলে ম্যাচে চড়াও হয়েছিল সেলেসাওরা। কিন্তু ম্যাচের ১৪তম মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করতে ব্যর্থ হয়ে লিড নেওয়ার সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করেছে তারা। ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডারের নেওয়া স্পট-কিকটি দুর্দান্ত দক্ষতায় রুখে দিয়ে এই মুহূর্তে নরওয়ের ত্রাণকর্তা ও ম্যাচের বড় নায়ক বনে গেছেন গোলরক্ষক ওরইয়ান নিল্যান্ড (Ørjan Nyland)।
ম্যাচের ১৪ মিনিটে পেনাল্টি ট্র্যাজেডি ও নিল্যান্ডের অবিশ্বাস্য সেভ
ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দল আক্রমণ-প্রতিআক্রমণে ম্যাচ জমিয়ে তোলে। ১৪তম মিনিটে নরওয়ের ডিবক্সে ব্রাজিলের ফরোয়ার্ডকে ফাউল করা হলে রেফারি পেনাল্টির বাঁশি বাজান। স্টেডিয়ামজুড়ে তখন সেলেসাও সমর্থকদের উল্লাস।
মিডফিল্ডারের ব্যর্থতা: ব্রাজিলের নির্ভরযোগ্য মিডফিল্ডার পেনাল্টি নেওয়ার জন্য স্পট-কিক লাইনে দাঁড়ান। কিন্তু চাপের মুখে তার নেওয়া শটটিতে গতির অভাব ছিল, যা আন্তর্জাতিক মঞ্চে একটি বড় ব্যর্থতা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ওরইয়ান নিল্যান্ডের কৃতিত্ব: ব্রাজিলের পেনাল্টি শটের লাইন নিখুঁতভাবে অনুমান করেন নরওয়ের অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ওরইয়ান নিল্যান্ড। ডানদিকে দুর্দান্ত এক ডাইভ দিয়ে তিনি নিশ্চিত গোল থেকে নরওয়েকে রক্ষা করেন। নিল্যান্ডের এই অতিমানবীয় সেভ পুরো নরওয়ে দলকে মানসিকভাবে উজ্জীবিত করে তুলেছে।
গোল মিসের মনস্তাত্ত্বিক চাপ ও ম্যাচের বর্তমান অবস্থা
এই পেনাল্টি মিসের পর ব্রাজিল দল কিছুটা মনস্তাত্ত্বিক চাপে পড়েছে। ম্যাচের শুরুতেই নরওয়ের আক্রমণ সামলানোর পর এই সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করা সেলেসাও শিবিরের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। নরওয়ের ডিফেন্স এখন অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী। অন্যদিকে, ব্রাজিলের আক্রমণভাগ এই ব্যর্থতা ভুলে নতুন করে আক্রমণ শানানোর চেষ্টা করছে। রেফারি শেষ বাঁশি বাজার আগ পর্যন্ত পেনাল্টি রুখে দেওয়া নিল্যান্ডের নরওয়ে নাকি গোল মিসের প্রতিশোধ নিয়ে ব্রাজিল শেষ আটের টিকিট কাটে, তা দেখতে ফুটবলপ্রেমীরা রুদ্ধশ্বাস মুহূর্ত পার করছেন।
মন্তব্য করুন