
বিশ্বকাপ ফুটবলের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার হাইভোল্টেজ ম্যাচে মাঠে নেমেই এক চরম নাটকীয়তার সাক্ষী হলো বিশ্ববাসী। ম্যাচের শুরুতেই পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের রক্ষণভাগের দুর্বলতাকে পুঁজি করে বল জালে জড়িয়ে দিয়েছিল নরওয়ে। তবে সেলেসাও সমর্থকদের স্তব্ধ করে দেওয়া নরওয়ের সেই উল্লাস মুহূর্তেই রূপ নেয় হতাশায়।লাইন্সম্যানের নিখুঁত সিদ্ধান্তে অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল হলে এক চরম বিপদ থেকে রক্ষা পায় ব্রাজিল দল।
ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্সের অসতর্কতা ও নরওয়ের হাই-প্রেসিং
ম্যাচের শুরু থেকেই নরওয়ের আক্রমণভাগ ব্রাজিলের রক্ষণভাগের ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করতে শুরু করে। বিশেষ করে মাঝমাঠ থেকে ডিফেন্স-চেরা এক পাসে ব্রাজিলের দুই সেন্ট্রাল ডিফেন্ডারের মধ্যকার বোঝাপড়ার অভাব স্পষ্ট হয়ে ওঠে। নরওয়ের ফরোয়ার্ড সেই সুযোগটি কাজে লাগিয়ে দারুণ এক ক্ষিপ্রতায় বল কেড়ে নিয়ে ব্রাজিলের গোলরক্ষককে পরাস্ত করে বল জালে পাঠান।
ডিফেন্সের দুর্বলতা: ম্যাচের শুরুতেই ব্রাজিলের রক্ষণভাগের এই আলগা ভাব এবং পজিশনিংয়ের ভুল স্পষ্ট ধরা পড়েছে, যা নকআউটের মতো বড় মঞ্চে যেকোনো দলের জন্যই আত্মঘাতী হতে পারে।
অফসাইডের খাঁড়া: নরওয়ে দল গোল উদযাপনে মেতে উঠলেও রেফারির অফসাইডের বাঁশিতে ম্যাচে স্বস্তি ফেরে সেলেসাও শিবিরে। রিপ্লেতে দেখা যায়, পাস দেওয়ার মুহূর্তে নরওয়ের ফরোয়ার্ড ব্রাজিলের শেষ ডিফেন্ডারের চেয়ে সামান্য এগিয়ে ছিলেন। ম্যাচে ফেরার মরিয়া লড়াই
অফসাইডের কারণে গোল বাতিল হলেও নরওয়ের এই শুরুটা ব্রাজিল দলের জন্য বড় একটি সতর্কবার্তা। এই ঘটনার পর ব্রাজিলের ডিফেন্ডাররা নিজেদের গুছিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন এবং মাঝমাঠের দখল নিয়ে নরওয়ের হাই-প্রেসিং ফুটবলকে সামাল দেওয়ার কৌশল নিচ্ছেন। অন্যদিকে, গোল বাতিল হলেও নরওয়ের ফুটবলারদের আত্মবিশ্বাস তুঙ্গে, তারা ক্রমাগত ব্রাজিলের ডিবক্সে আক্রমণ শানাচ্ছেন। রেফারি শেষ বাঁশি বাজার আগ পর্যন্ত এই দ্বৈরথ কোন দিকে মোড় নেয়, তা দেখতে ফুটবলপ্রেমীরা এখন টানটান উত্তেজনায় কাঁপছেন।
মন্তব্য করুন