
বিশ্বকাপ ফুটবলের মঞ্চে আরও একটি মহানাটকীয় ও ট্র্যাজিক অধ্যায়ের জন্ম দিল পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। টানটান উত্তেজনা, অফসাইডের নাটকীয়তা আর ইনজুরি থেকে ফেরা নেইমারের পেনাল্টি গোলের পরও শেষ হাসি হাসতে পারল না সেলেসাওরা। ম্যাচের শেষ ১০ মিনিটে বিশ্বফুটবলের অন্যতম সেরা গোলমেশিন আর্লিং হালান্ডের অতিমানবীয় জাদুতে ভর করে ব্রাজিলকে ২-১ গোলের ব্যবধানে হারিয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল (শেষ আট) নিশ্চিত করেছে ইউরোপের উদীয়মান পরাশক্তি নরওয়ে।
প্রথমার্ধের শুরুতেই নরওয়ের অফসাইড নাটকীয়তা
ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দল হাই-ইনটেনসিটি ফুটবল উপহার দেয়। খেলার একেবারে শুরুর দিকেই (ম্যাচের ১ম মিনিটে) ব্রাজিলের রক্ষণভাগের অসতর্কতার সুযোগ নিয়ে নরওয়ের ফরোয়ার্ডরা ব্রাজিলের জালে বল জড়িয়ে দিয়েছিল। তবে সেলেসাও সমর্থকদের স্তব্ধ করে দেওয়া নরওয়ের সেই উল্লাস মুহূর্তেই রূপ নেয় হতাশায়। লাইন্সম্যানের নিখুঁত সিদ্ধান্তে অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল হলে এক চরম বিপদ থেকে রক্ষা পায় ব্রাজিল দল।
১৪ মিনিটে পেনাল্টি মিসের খেসারত
ম্যাচের ১৪তম মিনিটে নরওয়ের ডিবক্সে ব্রাজিলের ফরোয়ার্ডকে ফাউল করা হলে রেফারি পেনাল্টির বাঁশি বাজান। কিন্তু ব্রাজিলের মিডফিল্ডারের নেওয়া সেই দুর্বল স্পট-কিকটি ডানদিকে দুর্দান্ত ডাইভ দিয়ে রুখে দেন নরওয়ের গোলরক্ষক ওরইয়ান নিল্যান্ড। প্রথমার্ধের এই পেনাল্টি মিসের মনস্তাত্ত্বিক ধাক্কা ব্রাজিলকে পুরো ম্যাচেই ভুগিয়েছে।
৬৭ মিনিটে নেইমারের আগমন ও পেনাল্টিতে সমতা
ম্যাচের গতি ফেরাতে ও আক্রমণভাগকে শক্তিশালী করতে দ্বিতীয়ার্ধের ৬৭তম মিনিটে সুপারসাব হিসেবে মাঠে নামানো হয় ব্রাজিলের প্রাণভোমরা নেইমার জুনিয়রকে। মাঠে নামার পর থেকেই নরওয়ের ডিফেন্সে ত্রাস সৃষ্টি করেন তিনি।
ম্যাচের শেষভাগে ব্রাজিলের পরিকল্পিত এক আক্রমণের সময় নরওয়ের বক্সে ফাউলের শিকার হন ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড। রেফারি পেনাল্টির নির্দেশ দিলে ফুটবল বিশ্বের কোটি চোখ আটকে যায় স্পট-কিক লাইনে। ১৪ মিনিটের পেনাল্টি মিসের হতাশা ভুলে এবার শট নিতে আসেন নেইমার। নরওয়ের গোলরক্ষক ওরইয়ান নিল্যান্ডকে সম্পূর্ণ পরাস্ত করে নিখুঁত শটে বল জালে জড়ান নেইমার। নেইমারের এই পেনাল্টি গোলে সমতায় ফিরে ম্যাচে দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়ায় সেলেসাওরা।
শেষ ১০ মিনিটে হালান্ড-ধামাকা ও ব্রাজিলের ডিফেন্স বিপর্যয়
ম্যাচে ১-১ সমতা থাকার পর শেষ দিকে যখন সবাই অতিরিক্ত সময়ের হিসাব-নিকাশ করছিল, ঠিক তখনই দৃশ্যপটে হাজির হন আর্লিং হালান্ড। ম্যাচের ৮০তম মিনিটে ব্রাজিলের সেন্ট্রাল ডিফেন্সের পজিশনিংয়ের মারাত্মক ভুলকে কাজে লাগান হালান্ড। মাঝমাঠ থেকে আসা লং পাস নিয়ন্ত্রণে নিয়ে এক চোখ ধাঁধানো বুলেট শটে ব্রাজিলের গোলরক্ষককে পরাস্ত করে নরওয়েকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে নেন এই স্ট্রাইকার। নকআউটের মতো বড় ম্যাচে শেষ মুহূর্তের এই ডিফেন্সিভ ল্যাপস ব্রাজিলের জন্য আত্মঘাতী প্রমাণিত হয়েছে।
শেষ আটে নরওয়ে, কান্নায় ভেঙে পড়ল সেলেসাওরা
গোলপোস্টের নিচে ওরইয়ান নিল্যান্ডের দৃঢ়তা এবং আর্লিং হালান্ডের শেষ মুহূর্তের ফিনিশিংয়ের ওপর ভর করে নরওয়ে ঐতিহাসিক জয় তুলে নেয়। রেফারি শেষ বাঁশি বাজানোর সাথে সাথে ব্রাজিলের খেলোয়াড়রা মাঠেই কান্নায় ভেঙে পড়েন। নেইমারের জাদুকরী প্রত্যাবর্তন ও পেনাল্টি গোলের পরও ডিফেন্সের ব্যর্থতায় ব্রাজিলের হেক্সা জয়ের স্বপ্ন আরও একবার চূর্ণ হলো, আর নতুন ইতিহাস লিখে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে পা রাখল লড়াকু নরওয়ে।
মন্তব্য করুন