
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ চলাকালে সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) ইসরায়েলি সেনা এবং আয়রন ডোম ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করা হয়েছিল বলে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে ইসরায়েল। দেশটির পরিবহনমন্ত্রী মিরি রেগেভ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন বলে জানিয়েছে প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম জেরুজালেম পোস্ট।
এর আগে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস প্রথম এই তথ্য প্রকাশ করে। পরে ইসরায়েলি সূত্র বিষয়টি সিএনএন-কেও নিশ্চিত করে।
ইসরায়েলের একাধিক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদ (এমবিজেড)-এর মধ্যে টেলিফোনে আলোচনার পর ইউএইতে আয়রন ডোম ব্যাটারি ও ইন্টারসেপ্টর পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
যুদ্ধ চলাকালে ইরান উপসাগরীয় দেশটির দিকে কয়েক ডজন ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করলে, মোতায়েন করা এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করে সেগুলোর একটি বড় অংশ ভূপাতিত করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
এ ঘটনাকে সামরিক দৃষ্টিকোণ থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ এটি ছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বাইরে প্রথমবারের মতো বাস্তব যুদ্ধক্ষেত্রে আয়রন ডোম ব্যবহারের ঘটনা।
এর আগে সিঙ্গাপুর এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সংগ্রহ করেছে বলে জানা গেলেও, বিদেশের কোনো দেশে এটি মোতায়েন করে যুদ্ধ পরিচালনার নজির ছিল না। এছাড়া রোমানিয়াও ভবিষ্যতে এই প্রযুক্তি পাওয়ার পথে রয়েছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে উল্লেখ করা হয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরু হয়। এই যুদ্ধ উপসাগরীয় অঞ্চলজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। প্রায় ছয় সপ্তাহ যুদ্ধের পর গত ৮ এপ্রিল থেকে যুদ্ধবিরতি চলছে। আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধের সময় উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্য যেকোনো দেশ-এমনকি ইসরায়েলের তুলনায় বেশি ইরানের হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছিল তারা।
আরব আমিরাতের দাবি, দেশটিতে ৫৫০টিরও বেশি ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ২ হাজার ২০০টির বেশি ড্রোন দিয়ে হামলা চালিয়েছিল ইরান। যদিও তারা ৯০ শতাংশের বেশি হামলা প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে। তবে কিছু ক্ষেপণাস্ত্র সামরিক ও বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে।
ইসরায়েলের তৈরি আয়রন ডোম ভ্রাম্যমাণ ও স্বল্পপাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। এটি এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় নিয়ে যাওয়া যায়। এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রকেট, মর্টার, কামানের গোলা ও ড্রোন ধ্বংস করতে সক্ষম। ইসরায়েল এর আগে বিদেশে এই ব্যবস্থা বিক্রি করেছে। তবে অন্য কোনো দেশে এটি মোতায়েন করে যুদ্ধে ব্যবহারের ঘটনা এটিই প্রথম।
মন্তব্য করুন