
ব্যবসায়ী পরিচয়ে প্রতারণার মাধ্যমে দুই লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে তিন সদস্যের একটি প্রতারক চক্রকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) যশোরের সদস্যরা। এ সময় প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। গ্রেপ্তাররা হলেন খুলনার ফুলতলা উপজেলার বরনপাড়া এলাকার দাউদ সরদারের ছেলে মনিরুল ইসলাম (৪০), গফুর মোল্লার ছেলে হাফিজুর রহমান মোল্যা (৪৭) এবং একই গ্রামের হাযদার আলীর ছেলে ইমতিয়াল আহমেদ ওরফে সুজা (৩০)। সোমবার ভোররাতে খুলনার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
পিবিআই জানায়, যশোর শহরের কদমতলা এলাকার ব্যবসায়ী মো. ইকবাল হোসেন ফটোকপি মেশিনের যন্ত্রাংশ বিক্রি ও মেরামতের ব্যবসা করেন। কয়েক মাস আগে ব্যবসায়িক কাজে খুলনায় গিয়ে তিনি মনিরুল ইসলাম, হাফিজুর রহমান ও ইমতিয়াল আহমেদের সঙ্গে পরিচিত হন। তারা নিজেদের ফটোকপি মেশিনের পার্টস সরবরাহকারী হিসেবে পরিচয় দিয়ে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতে শুরু করেন।
বিশ্বাস অর্জনের জন্য প্রথমে তারা ইকবাল হোসেনের একটি ছোট অর্ডারের যন্ত্রাংশ যথাযথভাবে সরবরাহ করেন, ফলে তার আস্থা অর্জন করেন। পরে ২০২৫ সালের ২২ ডিসেম্বর তারা যশোরে এসে কদমতলা এলাকার ‘মোহনা টাইপ রাইটার সার্ভিস’ প্রতিষ্ঠানে ইকবাল হোসেনের সঙ্গে দেখা করেন।
এ সময় ব্যবসায়িক প্রয়োজনে জরুরি অর্থের প্রয়োজন দেখিয়ে অর্ডার করা মালামালের মূল্য সমন্বয়ের আশ্বাস দিয়ে তার কাছ থেকে নগদ দুই লাখ টাকা গ্রহণ করেন। একই দিন সন্ধ্যার মধ্যে মালামাল পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও পরে তারা আর কোনো মালামাল সরবরাহ করেননি এবং ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরগুলোও বন্ধ পাওয়া যায়।
এ ঘটনায় ইকবাল হোসেন কোতোয়ালি থানায় অভিযোগ করলে ২০২৬ সালের ১৯ মে প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগে মামলা রুজু হয়। মামলাটি পরে পিবিআই যশোরের তদন্তে আসে।
তদন্ত ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযুক্তদের অবস্থান শনাক্ত করে পিবিআইয়ের একটি দল সোমবার ভোরে খুলনার ফুলতলা উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় মনিরুল ইসলামের কাছ থেকে প্রতারণায় ব্যবহৃত দুটি বাটন মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।
সোমবার বিকেলে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হলে বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
মন্তব্য করুন