
জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে অবমাননাকর বক্তব্য এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন ভিডিও ও পোস্টের অভিযোগ তুলে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। এতে সাংবাদিক আনিস আলমগীর, অভিনেত্রী ও নির্মাতা মেহের আফরোজ শাওনসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে।
রোববার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানায় অভিযোগটি করেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় সদস্য ও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এস এম সুইট।
লিখিত অভিযোগে এস এম সুইট উল্লেখ করেন, জুলাই যুদ্ধে এক হাজার ৪০০-এর বেশি মানুষ শহীদ এবং ৩০ হাজারের বেশি মানুষ আহত ও পঙ্গুত্ববরণ করেছেন। তাদের আত্মত্যাগ বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। তবে সম্প্রতি কয়েকজন ব্যক্তি প্রকাশ্যে জুলাই যুদ্ধ, এর স্মৃতিচিহ্ন এবং আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের নিয়ে বিভিন্ন অবমাননাকর মন্তব্য ও বক্তব্য দিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি ও ক্ষোভের সৃষ্টি করছেন।
অভিযোগে বলা হয়, ‘শান্তা ফারজানা’ নামের একজন জুলাই যুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভে জুতা নিক্ষেপ বা প্রদর্শনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেছেন।
অভিযোগকারীর দাবি, এ ধরনের কর্মকাণ্ড শহীদদের স্মৃতির প্রতি অবমাননাকর এবং সাধারণ মানুষের ধর্মীয় ও সামাজিক অনুভূতিতে আঘাত হেনেছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, মেহের আফরোজ শাওন বিভিন্ন ভিডিও বার্তা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত বক্তব্যে জুলাই যুদ্ধকে বিতর্কিত বা সাজানো ঘটনা হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করেছেন। তার বক্তব্যে জুলাই যুদ্ধ সম্পর্কে অবমাননাকর মন্তব্য রয়েছে বলেও অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।
একই অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত বক্তব্যে জুলাই আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী ব্যক্তি ও সংগঠনগুলোকে কটাক্ষ করেছেন, যা নিয়ে বিভিন্ন মহলে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
এদের পাশাপাশি সাংবাদিক আনিস আলমগীর, সোমা ইসলাম এবং মোমিন মেহেদীর সাম্প্রতিক বক্তব্য ও কর্মকাণ্ডেও জুলাই যুদ্ধের চেতনা ক্ষুন্ন হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে এস এম সুইট বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে আমি সামনে থেকে রাজপথে ছিলাম। আমার অনেক ভাই-বোনকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে, অনেকে পঙ্গুত্ববরণ করেছেন। জুলাই মাস এলেই সেই স্মৃতি আমাকে আবেগাপ্লুত করে। এরপরও কেউ যদি জুলাই আন্দোলনকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ বা কটাক্ষ করেন, তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। এ বিষয়ে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদ রানার বলেন, লিখিত অভিযোগটি পেয়েছি। ঊর্ধ্বতনদের সঙ্গে কথা বলে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এদিকে, জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে দেওয়া একটি ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে সমালোচনার মুখে পড়েছেন অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওন। এরই মধ্যে তার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট আর দেখা যাচ্ছে না। শাওনের ঘনিষ্ঠজন ও লেখক তামান্না সেতুর দাবি, বিপুলসংখ্যক রিপোর্টের কারণে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ অ্যাকাউন্টটি সাসপেন্ড করেছে। রোববার নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এ দাবি করেন লেখক তামান্না সেতু।
পোস্টে তিনি লেখেন, বন্ধু মেহের আফরোজ শাওনের ফেসবুক অ্যাকাউন্টটি বিপুলসংখ্যক রিপোর্টের কারণে ফেসবুক থেকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, যে পোস্টটি ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়েছিল, সেটি শাওন নিজে মুছে দেননি।
তামান্না সেতু আরও জানান, এ তথ্য তাকে ব্যক্তিগতভাবে জানিয়েছেন মেহের আফরোজ শাওন।
এর আগে জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর ও আপত্তিকর বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে শাওনসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে রাজধানীর শাহবাগ থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়।
রাষ্ট্র সংলাপ ফোরামের নেতারা ওই অভিযোগ দায়ের করেন। তাদের দাবি, জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে বিভ্রান্তিকর ও আপত্তিকর বক্তব্য দিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছে।
তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত মেহের আফরোজ শাওনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে ফেসবুকের মূল প্রতিষ্ঠান **মেটা**ও অ্যাকাউন্টটি সাসপেন্ড হওয়ার বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি।
মন্তব্য করুন
০৫ জুলাই ২০২৬, ০১:৫৫ পিএম
০৫ জুলাই ২০২৬, ০৮:০৪ পিএম