
নরওয়ের কাছে হেরে বিশ্বকাপ অভিযান শেষ হয়েছে ব্রাজিলের। একজন আর্জেন্টিনার ভক্ত হিসেবে সেলেসাওদের বিদায়ে খারাপ লাগার কথা না মাশরাফি মর্তুজার। তবে দলটির তারকা ফুটবলার নেইমারের কথা ভেবে মন খারাপ হচ্ছে বাংলাদেশ দলের সাবেক অধিনায়কের।
অনেক কৌতুহলের পর কার্লো আনচেলত্তির ঘোষিত বিশ্বকাপ দলে জায়গা পেলেও সিংহভাগ সময় ডাগআউটে বসেই কেটেছে নেইমারের। প্রথম ২ ম্যাচ বেঞ্চে বসে থাকার পর গ্রুপপর্বে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ দিকে বদলি হিসেবে মাঠে নামেন। এরপর সেরা ৩২-এর ম্যাচে জাপানের বিপক্ষে মাঠে নামা হয়নি তাঁর। নরওয়ের বিপক্ষে হেরে যাওয়া ম্যাচে ৬৮ মিনিটে বদলি হিসেবে নেইমারকে নামান আনচেলত্তি। এমন দুর্দান্ত একজন ফুটবলারকে এভাবে বাইরে বসিয়ে রাখায় আনচেলত্তির সমালোচনা করেছেন মাশরাফি।
ফেসবুকে মাশরাফি লিখেছেন, ‘শুধু নেইমারের জন্য মনটা ভীষণ খারাপ হচ্ছে। হয়তো আর বিশ্বমঞ্চে দেখা হবে না তাকে। ব্রাজিলের হয়ে সবচেয়ে বেশি গোলের মালিককে এভাবে বেঞ্চে বসে থাকতে দেখে খুবই বিরক্ত লেগেছে। একটু বেশি সময় পেলে হয়তো গল্পটা অন্যরকমও হতে পারতো। বিদায় বেলায় কান্না দেখে খুব খারাপ লাগছিল। কী অসাধারণ একজন ড্রিবলার! কী অ্যাকুরিসি ছিল তার পায়ে! তার চেয়ে সহজভাবে কেউ পেনাল্টি মারতে পারে বলে মনে হয় না। ক্যারিয়ারটা কী দারুণ হতে পারতো। অথচ সেটার কাছাকাছিও যেতে পারলো না।’
বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়া ব্রাজিলের জন্য গল্পটা অন্যরকমও হতে পারতো। ১৩ তম মিনিটে স্পট কিক থেকে গোল করতে ব্যর্থ হন দলটির মিডফিল্ডার ব্রুনো গিমারেস। শেষ পর্যন্ত ২-১ গোলে হেরে সেটারই মাশুল দিতে হলো ব্রাজিলকে। যদিও মাশরাফি পেনাল্টি মিসকে খেলার অংশ হিসেবেই দেখছেন।
এই প্রসঙ্গে মাশরাফি লিখেছেন, ‘দুই দুটি পেনাল্টি পেয়েও হেরে গেল ব্রাজিল। বিগত চারটা বছর এই পেনাল্টি পেনাল্টি করে চিল্লাপাল্লা করে আজ সেই পেনাল্টিই কাল হয়ে দাঁড়াল। পেনাল্টি খেলারই অংশ, আবার মিস করাও খেলার অংশ; এটা ভুলে গেলে হয় না। এমন না যে, পেনাল্টি পেলেই কেউ বিশ্বকাপ জিতে যাবে। কাতার বিশ্বকাপের ফাইনালে ফ্রান্স দুটি পেনাল্টি পেয়েছিল। তারপরও সহজ গোল মিস করে টাইব্রেকারে হেরেছে। যাক, কোনো ব্যাপার না। ব্রাজিল ভক্তদের জন্য রইলো সমবেদনা। হেক্সা হবেই, এবার হয়নি, তবে.....।’
আর্জেন্টিনার সমর্থক গোষ্ঠীকে সেরা মনে করেন মাশরাফি, ‘আমরা যারা আর্জেন্টিনা ভক্ত, তাদের কাছ থেকে মানসিক শক্তি নিতে পারো। কারণ, এই কষ্ট আমাদের থেকে আর কেউ ভালো জানে না। ৩৬টা বছর যেন তেন বিষয় না। আমি তো বলি পৃথিবীর সবচেয়ে সেরা সমর্থক একমাত্র আমরাই।’
মন্তব্য করুন