
ডালাসের মাঠে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা মহাকাব্যের অবসান ঘটল। চূর্ণ হলো ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর আরও একবার বিশ্বজয়ের স্বপ্ন, আর সেই সাথে শেষ হয়ে গেল তার বর্ণিল বিশ্বকাপ ক্যারিয়ার। নকআউট পর্বের এক রুদ্ধশ্বাস ও স্নায়ুক্ষয়ী ম্যাচে পর্তুগালকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে ফিফা বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে (শেষ আট) প্রবেশ করেছে স্পেন। নির্ধারিত ৯০ মিনিটের চরম সতর্ক ও রক্ষণাত্মক ফুটবল শেষে যখন সবাই পেনাল্টি শুটআউটের প্রহর গুনছিল, ঠিক তখনই যোগ করা সময়ের (অতিরিক্ত সময়) প্রথম মিনিটে পর্তুগিজদের স্তব্ধ করে উল্লাসে মাতে স্প্যানিশ আর্মাডারা।
৯১ মিনিটের মহানাটকীয়তা: মিকেল মেরিনোর জাদুকরী গোল
দ্বিতীয়ার্ধের পুরোটা সময় দুই দলের রক্ষণভাগ যেভাবে জমাট বেঁধেছিল, তাতে মনে হচ্ছিল গোলমুখ উন্মোচন করা অসম্ভব। তবে ম্যাচের অতিরিক্ত সময়ের বা যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে (৯১ মিনিটে) পাশার দান উল্টে দেয় স্পেনের বদলি খেলোয়াড়দের দুর্দান্ত কম্বিনেশন।
ফেরান তোরেসের নিখুঁত পাস: স্পেনের আক্রমণভাগের তারকা ফেরান তোরেস পর্তুগালের রক্ষণভাগের সামান্য অসতর্কতার সুযোগ নেন। ডিবক্সের ঠিক বাইরে বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে তিনি দারুণ এক পাস বাড়ান বক্সে ওত পেতে থাকা সতীর্থের উদ্দেশ্যে। মিকেল মেরিনোর ক্লিনিক্যাল ফিনিশিং: তোরেসের কাছ থেকে নিখুঁত টাইমিংয়ে বল পান স্পেনের বদলি তারকা মিকেল মেরিনো। পর্তুগিজ ডিফেন্ডারদের ব্লক করার কোনো সুযোগ না দিয়ে এক জাদুকরী শটে বল জালে জড়িয়ে দেন মেরিনো। উগ্র উল্লাসে ফেটে পড়ে স্প্যানিশ শিবির, আর ওখানেই মূলত নিশ্চিত হয়ে যায় ম্যাচের ভাগ্য। খেলোয়াড়দের কৃতিত্ব ও ব্যর্থতার বিশ্লেষণ
স্পেনের ডাগআউট ও বেঞ্চের সাফল্য: স্পেনের প্রধান কোচের দূরদর্শিতা এই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করেছে। দ্বিতীয় অর্ধে নামানো বদলি তারকা ফেরান তোরেস এবং মিকেল মেরিনোর রসায়নই স্পেনকে কাঙ্ক্ষিত ব্রেকথ্রু এনে দেয়। রক্ষণভাগে গোলরক্ষক উনাই সিমন পুরো ম্যাচেই ছিলেন দুর্দান্ত।
পর্তুগালের রক্ষণভাগের অন্তিম মুহূর্তের ভুল: পুরো ম্যাচ দুর্দান্ত ডিফেন্স করার পর অতিরিক্ত সময়ের ঠিক শুরুতে পজিশনিং ও মার্কিংয়ের একটি মাত্র ভুল পর্তুগালের জন্য কাল হয়ে দাঁড়াল। মেরিনোকে শট নেওয়ার জন্য বক্সে জায়গা দেওয়াটাই ছিল ডিফেন্ডারদের পুরো ম্যাচের সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা।
রোনালদোর ট্র্যাজিক বিদায়: পুরো ম্যাচে স্প্যানিশ ডিফেন্ডারদের কড়া পাহাড়ায় থাকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো নিজের চেনা ছন্দ খুঁজে পেতে ব্যর্থ হন। মাঝমাঠ থেকে সঠিক বলের জোগান না পাওয়া এবং স্পেনের প্রেসিং ফুটবলের কারণে বিদায়ী বিশ্বকাপে নিজের শেষ ম্যাচে জালের দেখা পেলেন না এই কিংবদন্তি।
অশ্রুসিক্ত চোখে মাঠ ছাড়লেন রোনালদো
রেফারি শেষ বাঁশি বাজানোর সাথে সাথেই ডালাসের মাঠজুড়ে নেমে আসে এক মিশ্র আবহ। একদিকে স্পেনের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার বাঁধভাঙা আনন্দ, অন্যদিকে পর্তুগিজ শিবিরে চরম হতাশা। ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা নায়ক ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো অশ্রুসিক্ত চোখে মাঠ ছাড়েন, যা বিশ্বজুড়ে কোটি ফুটবল ভক্তের হৃদয় ভেঙে দিয়েছে। এই জয়ের ফলে স্পেন চলে গেল শেষ আটে, আর পর্তুগালের সোনালী প্রজন্মের একটি অধ্যায়ের এখানেই সমাপ্তি ঘটল।
মন্তব্য করুন