
যুক্তরাষ্ট্রের ডালাসে বিশ্বফুটবলের দুই পরাশক্তি স্পেন ও পর্তুগালের মধ্যকার হাইভোল্টেজ নকআউট লড়াইটি এখন রূপ নিয়েছে এক চরম মনস্তাত্ত্বিক ও স্নায়ুচাপপূর্ণ যুদ্ধে। প্রথমার্ধে মাঠজুড়ে যে নান্দনিক আক্রমণ ও পাল্টা আক্রমণের রোমাঞ্চকর প্রদর্শনী দেখা গিয়েছিল, দ্বিতীয়বার্ধের শুরু থেকে তা এক কৌশলগত ডিফেন্সিভ ফুটবলে রূপ নিয়েছে। দুই দলের মধ্যকার ব্যবধান এখন এতটাই সামান্য যে, যেকোনো মুহূর্তে ম্যাচের ভাগ্য বদলে যেতে পারে। বিশ্বমঞ্চের এই মহাগুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যাওয়ার ভয়ে এখন চরম সতর্ক দুই দলের রক্ষণভাগ।
প্রথমার্ধের আক্রমণ বনাম দ্বিতীয়ার্থের ট্যাকটিক্যাল ডিফেন্স
ম্যাচের প্রথমার্ধে দুই দলের ফরোয়ার্ডরাই প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগ কাঁপিয়ে দিয়েছিল। স্পেনের রদ্রি, লামিন ইয়ামাল ও আলেক্স বায়েনার ত্রিমুখী প্রচেষ্টা যেমন পর্তুগিজ প্রাচীর দিওগো কোস্তার ডাবল সেভে আটকে যায়; তেমনি পর্তুগালের পাল্টা আক্রমণও দারুণ দক্ষতায় নস্যাৎ করেন স্প্যানিশ গোলরক্ষক উনাই সিমন।
তবে বিরতির পর ডালাসের মাঠে দেখা গেছে একদম ভিন্ন কৌশল:
রক্ষণভাগের কৃতিত্ব ও কৌশলগত নিখুঁত বিন্যাস: দ্বিতীয় অর্ধে উভয় দলের ডিফেন্ডাররাই নিজেদের পজিশনিং ঠিক রাখার বিষয়ে শতভাগ সফল। স্পেনের রক্ষণভাগ পর্তুগালের কাউন্টার অ্যাটাকের গতি কমিয়ে দিতে মাঝমাঠেই প্রেস করছে। অন্যদিকে, পর্তুগিজ ডিফেন্স লাইনে কোনো ফাঁকা জায়গা না রেখে স্পেনের উইঙ্গারদের বক্সে ঢোকার পথ সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিয়েছে।
আক্রমণভাগের শান্ত ভাব (ব্যর্থতা নাকি কৌশল?): প্রথমার্ধের সেই গতিময় ফুটবলের তুলনায় দ্বিতীয় অর্ধে দুই দলের আক্রমণভাগই কিছুটা রক্ষণাত্মক মেজাজে খেলছে। ছিটকে যাওয়ার ভয় এতটাই কাজ করছে যে, কোনো খেলোয়াড়ই রক্ষণ দুর্বল করে অতিরিক্ত ওপরে উঠে ঝুঁকি নিতে চাইছেন না। আক্রমণভাগের এই অতি-সতর্কতা ম্যাচের গোল পাওয়ার সম্ভাবনাকে কিছুটা কমিয়ে দিয়েছে।
এক ভুলের অপেক্ষায় দুই দল
ডালাসের গ্যালারিতে বসা হাজারো দর্শকের চোখে এখন রুদ্ধশ্বাস অপেক্ষা। এই টানটান উত্তেজনার মুহূর্তে ট্যাকটিক্যাল দিক থেকে দুই দলই এখন প্রতিপক্ষের একটি ছোট ভুলের অপেক্ষায় ওত পেতে আছে। ম্যাচের এই পর্যায়ে রক্ষণভাগের একটি সামান্য মনোযোগহীনতা বা পাসিংয়ের ভুলই ডেকে আনতে পারে বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের করুণ পরিণতি। অতিরিক্ত সময়ে ম্যাচ গড়ানোর আগে কোনো দল ডেডলক ভাঙতে পারে কি না, তা দেখতে ফুটবল বিশ্ব এখন টিভির পর্দায় চোখ রাখছে।
মন্তব্য করুন