
সেশনজট, ফল প্রকাশের দীর্ঘসূত্রিতা এবং একাডেমিক কার্যক্রমে ধীরগতির প্রতিবাদে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) নৃবিজ্ঞান বিভাগের সামনে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। তারা বিভাগীয় প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পরীক্ষার ফল প্রকাশ এবং সেশনজট নিরসনের রূপরেখা প্রণয়নের দাবি জানান।
বুধবার (২৪ জুন) সকাল সাড়ে ১০টায় বিভাগের সামনে বিভিন্ন ধরনের প্লেকার্ড হাতে নিয়ে শিক্ষার্থীদের স্লোগান ও বিক্ষোভ করতে দেখা যায়।
শিক্ষার্থীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে সেশনজট, সময়মতো ফল প্রকাশ না হওয়া এবং একাডেমিক ক্যালেন্ডার অনুসরণ না করার কারণে তারা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। বারবার অভিযোগ জানানো হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় তারা বাধ্য হয়ে এ কর্মসূচি পালন করেন।
নৃবিজ্ঞান বিভাগে ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান পাপন বলেন, আমাদের একাডেমিক কার্যক্রম শুরু হয়েছিল ২০২০ সালের জানুয়ারিতে। করোনার কারণে দেড় বছর কার্যক্রম ব্যাহত হলেও ২০২৪ সালের মধ্যেই অনার্স শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেশনজটের কারণে তা শেষ হয়েছে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে। এছাড়া ফল প্রকাশের পর প্রায় পাঁচ মাস আমাদের কোনো মাস্টার্স ক্লাস, পরীক্ষা বা রুটিন দেওয়া হয়নি। বিভাগের পক্ষ থেকে কারিকুলাম না থাকার কথা বলা হলেও, আমাদের প্রশ্ন এতদিনেও কেন কারিকুলাম প্রস্তুত করা হলো না?
তিনি আরও বলেন, সেশনজটের কারণে আমাদের শিক্ষাজীবন ক্ষতিগ্রাস্ত হচ্ছে। যে সেমিস্টার ছয় মাসে শেষ হওয়ার কথা, সেটি নয় মাস পেরিয়েও শেষ হয়নি। আমরা দ্রুত এ সমস্যার সমাধান চাই।
আন্দোলনরত ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী খালিদ হাসান বলেন, আমাদের বিভাগের বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী উপস্থিতির হার ৬০ শতাংশের কম হওয়ায় পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। কিন্তু এর পেছনে বিভাগের একাডেমিক ও প্রশাসনিক নানা জটিলতাও দায়ী। আমরা চাই, বঞ্চিত শিক্ষার্থীদের বিষয়টি মানবিকভাবে বিবেচনা করে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হোক। পাশাপাশি দীর্ঘদিনের সেশনজট ও ফল প্রকাশে বিলম্বের সমস্যারও স্থায়ী সমাধান করতে হবে। এসব দাবিতে আমরা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করছি।
নৃবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান কাজি রবিউল আলম বলেন, কিছু শিক্ষার্থীর উপস্থিতির হার ৬০ শতাংশের নিচে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী তারা পরীক্ষায় অংশগ্রহণের যোগ্য নয়। সেই নিয়ম অনুসারেই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে তারা পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে না। আজ পরীক্ষার শুরুর কথা ছিল। তবে পরীক্ষার আগে শিক্ষার্থীরা দাবি তোলে, যেসব শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিতে পারছে না, তাদের সুযোগ না দিলে তারাও পরীক্ষায় অংশ নেবে না। আমি তাদের জানিয়েছি, বিষয়টি নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এককভাবে এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়। মূলত এ বিষয়টিকেই কেন্দ্র করে তারা আন্দোলন করছে।
মন্তব্য করুন