
ইউরোপের দেশগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি জনআস্থা ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে ইউরোপীয় কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনস (ইসিএফআর)। সংস্থাটির সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, ১৫টি ইউরোপীয় দেশের মাত্র ১১ শতাংশ নাগরিক বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রকে নিজেদের নির্ভরযোগ্য মিত্র হিসেবে বিবেচনা করেন। বিশ্লেষকদের মতে, এটি সাম্প্রতিক বছরগুলোর তুলনায় উল্লেখযোগ্য পতনের ইঙ্গিত বহন করে।
জি-৭ এবং উত্তর আটলান্টিক চুক্তি সংস্থা (ন্যাটো) শীর্ষ সম্মেলনের আগে প্রকাশিত এই জরিপ ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার নিরাপত্তা সম্পর্কের পরিবর্তিত বাস্তবতাকে সামনে এনেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিরাপত্তা অংশীদার হিসেবে ওয়াশিংটনের ওপর ইউরোপীয় জনগণের আস্থা ক্রমশ কমে আসছে।
জরিপে আরও দেখা গেছে, ইউরোপের বিভিন্ন দেশে প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর পক্ষে জনসমর্থন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে এ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম ইতালি। দেশটির অধিকাংশ নাগরিক এখনও সামরিক খাতে অতিরিক্ত ব্যয়ের বিরোধিতা করছেন।
অন্যদিকে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিরক্ষা খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে যৌথ ঋণ গ্রহণের ধারণাও জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। জরিপ অনুযায়ী, অঞ্চলের প্রায় অর্ধেক নাগরিক এই উদ্যোগকে সমর্থন করেছেন। বিশেষ করে পর্তুগাল, ডেনমার্ক ও নেদারল্যান্ডসের জনগণের মধ্যে এ সমর্থন সবচেয়ে বেশি।
জরিপে উঠে এসেছে, মার্কিন সামরিক সরঞ্জামের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ইউরোপীয় উৎপাদিত অস্ত্র ও প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি ব্যবহারের পক্ষে জনমত শক্তিশালী হচ্ছে। ডেনমার্ক, নেদারল্যান্ডস এবং সুইডেনের নাগরিকরা ইউরোপীয় অস্ত্র কেনার পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছেন।
তবে পোল্যান্ডের অবস্থান ভিন্ন। দেশটির অধিকাংশ মানুষ এখনও মার্কিন অস্ত্র ক্রয়ের পক্ষে মত দিয়েছেন। একই সময়ে জার্মানি, ইতালি এবং হাঙ্গেরিতে এ বিষয়ে জনমত বিভক্ত রয়েছে।
যদিও প্রতিরক্ষা খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধির পক্ষে সমর্থন বাড়ছে, তবে অন্যান্য সামাজিক ও অর্থনৈতিক খাতের ব্যয় কমিয়ে সামরিক বাজেট বাড়ানোর প্রস্তাব অনেক দেশের নাগরিকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
বিশেষ করে ইতালি, অস্ট্রিয়া এবং জার্মানির বড় একটি অংশ মনে করেন, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও জনকল্যাণমূলক খাতের ব্যয় কমিয়ে প্রতিরক্ষা বাজেট বাড়ানো উচিত নয়। ফলে ইউরোপে নিরাপত্তা জোরদারের প্রশ্নে সমর্থন থাকলেও, সেই অর্থায়নের উৎস নিয়ে এখনও ব্যাপক বিতর্ক বিদ্যমান।
মন্তব্য করুন
১০ জুন ২০২৬, ০৪:১৫ পিএম
১০ জুন ২০২৬, ০৩:৩৭ পিএম
১০ জুন ২০২৬, ০৬:৫৬ পিএম