
হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার ও প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ বলেছেন, একতরফা চুক্তির যুগ শেষ হয়ে গেছে এবং প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের মূল্য দিতে হবে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (সাবেক টুইটার)-এ দেওয়া এক পোস্টে গালিবাফ লেখেন, ‘আমরা আগেই বলেছিলাম—প্রতিশ্রুতি রক্ষা করুন, নইলে এর মূল্য দিতে হবে। বাস্তবতা এখন দরজায় কড়া নাড়ছে।’
তার পোস্টের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) ৫ নম্বর অনুচ্ছেদের ছবি যুক্ত করা হয়। ওই অনুচ্ছেদে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে ইরান প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে—এমন অংশটি বিশেষভাবে হাইলাইট করা ছিল।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে যে তারা ইরানে তৃতীয় দফার সামরিক হামলা শুরু করেছে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালিতে সাইপ্রাসের পতাকাবাহী একটি বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) হামলা চালানোর পরই এই অভিযান শুরু হয়।
হামলায় ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের আসালুয়েহ ও বন্দর-ই-দায়ের এলাকার বাসিন্দারা কয়েকটি বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন। বুশেহর প্রদেশের বন্দর-ই-দায়েরে পাঁচটি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। আর আসালুয়েহে বিস্ফোরণ হয়েছে চারটি।
এ ছাড়া বন্দরনগরী আব্বাস ও সিরিকে তিনটি করে বিস্ফোরণ হয়েছে। আর বন্দরনগরী চাবাহারে অন্তত দুটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। সম্প্রচারমাধ্যমটি আরো জানিয়েছে, দক্ষিণের হরমুজগান প্রদেশের বন্দরনগরী জাসকে ১০টির বেশি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
এদিকে ইরানও পাল্টা সামরিক অভিযান অব্যাহত রেখেছে। ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, কুয়েত, বাহরাইন, কাতার ও জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোতে একাধিক দফায় ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে।
আইআরজিসির দাবি, এসব হামলায় সংশ্লিষ্ট মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এ দাবির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো স্বাধীন নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।
মন্তব্য করুন