
ইরানের বিরুদ্ধে আরও বড় সামরিক অভিযান চালানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার এমন সতর্কবার্তার মধ্যেই ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান ১৩তম দিনে গড়িয়েছে। শুক্রবার (২৪ জুলাই) দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে নতুন করে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ইরানের সামরিক কমান্ড সেন্টার, ড্রোন সংরক্ষণাগার, যোগাযোগ নেটওয়ার্ক, উপকূলীয় নজরদারি স্থাপনা এবং সামুদ্রিক সক্ষমতার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে।
সেন্টকমের দাবি, এসব হামলার মূল লক্ষ্য ছিল ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)-এর সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করা এবং বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে সম্ভাব্য হুমকি প্রতিহত করা। একই সঙ্গে ইরানকে সামরিক কর্মকাণ্ডের জন্য জবাবদিহির আওতায় আনাও অভিযানের অন্যতম উদ্দেশ্য বলে জানানো হয়েছে।
আল জাজিরার তেহরান প্রতিনিধি তোহিদ আসাদি জানান, কেশম দ্বীপে বিস্ফোরণের পাশাপাশি খুজেস্তান প্রদেশের রাজধানী আহভাজেও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। এছাড়া ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে আন্দিমেশক ও ওমিদিয়া শহরেও মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর পাওয়া গেছে।
ফার্স নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বন্দরনগরী বান্দার আব্বাসের একটি আবাসিক এলাকায় মার্কিন হামলায় অন্তত দুজন আহত হয়েছেন।
এর আগে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরানের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় হামলা চালানোর বিষয়টি তিনি বিবেচনা করছেন। উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের ওপর তেহরানের পাল্টা হামলার পর তিনি এ মন্তব্য করেন। এর মধ্যে কুয়েতের একটি টেলিযোগাযোগ টাওয়ারেও হামলার ঘটনা ঘটে।
ট্রাম্প বলেন, আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বড় আকারের সামরিক অভিযান চালানোর প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন এবং এ বিষয়ে সিদ্ধান্তও চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
ইরানি সংবাদমাধ্যমের ভাষ্য, এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা এই সামরিক সংঘাত নতুন করে জটিলতা তৈরি করেছে। যুক্তরাষ্ট্র টানা ১২ রাত ধরে ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে, যেখানে সেতু ও টানেলও লক্ষ্যবস্তু হয়েছে।
অন্যদিকে ইরানের পাল্টা হামলা উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ায় জ্বালানি সরবরাহ ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সতর্ক করে বলেছেন, দেশটির অবকাঠামো বা অন্য যেকোনো স্থাপনায় ভবিষ্যতে হামলা হলে ‘যেমন কর্ম তেমন ফল’ নীতিতে কঠোর জবাব দেওয়া হবে।
মার্কিন হামলার পর বৃহস্পতিবার ইরান জর্ডান, বাহরাইন ও কুয়েতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। আইআরজিসি জানায়, এসব হামলায় মার্কিন সামরিক সরঞ্জাম লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। একই সঙ্গে কুয়েতের একটি টেলিযোগাযোগ টাওয়ারে হামলার দায়ও স্বীকার করে তারা। আইআরজিসির দাবি, ইরানের টেলিযোগাযোগ অবকাঠামোতে মার্কিন হামলার প্রতিক্রিয়ায় এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
এক বিবৃতিতে আইআরজিসি কুয়েতের জনগণের উদ্দেশে জানায়, উপসাগরীয় দেশটির সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করেছে যুক্তরাষ্ট্র, ইরান নয়।
এদিকে কুয়েত জানিয়েছে, ইরাক সীমান্তসংলগ্ন আবদালি সীমান্ত ক্রসিংও ড্রোন হামলার শিকার হয়েছে।
ইরানের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র মোহাম্মদ আকরামিনিয়া বলেছেন, দেশের অবকাঠামো ও উপকূলীয় এলাকায় মার্কিন হামলা চলতে থাকলে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর পাল্টা সামরিক অভিযানও অব্যাহত থাকবে।
সূত্র: আল জাজিরা
মন্তব্য করুন