
ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলের কেতজিওত কারাগারে ফিলিস্তিনি হামাস সদস্যদের রাখা বিশেষ বন্দিশালা ঘিরে কুমির রাখার জন্য পরিখা বা খাল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বুধবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে মিডল ইস্ট মনিটর।
রামাত নেগেভ আঞ্চলিক কাউন্সিলের এক স্থানীয় কর্মকর্তার বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কারাগারের অভ্যন্তরের এমন একটি উইংয়ের চারপাশে প্রায় ১৭০ মিটার দীর্ঘ পরিখা খননের কাজ শুরু হয়েছে, যা বাইরে থেকে দৃশ্যমান নয়।
ইসরায়েলের পরিবেশ সুরক্ষা মন্ত্রী ইদিত সিলমান নীল নদের কুমিরকে গৃহপালিত বন্যপ্রাণী হিসেবে নতুন শ্রেণিভুক্ত করার পর এই প্রকল্প বাস্তবায়নের পথ তৈরি হয় বলে জানা গেছে।
ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরের দপ্তর জানিয়েছে, এটি একটি পাইলট প্রকল্প হিসেবে শুরু করা হয়েছে। প্রকল্পটিকে যারা সস্তা প্রচারণামূলক উদ্যোগ বলে মনে করেছিলেন, তাদের ধারণা ভুল প্রমাণিত হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
প্রকল্পের আওতায় পরিখা নির্মাণ ও কুমিরের পরিচর্যার জন্য প্রায় ২১ মিলিয়ন ইসরায়েলি শেকেল, যা প্রায় ৬ দশমিক ৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ, বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে কারা কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
তবে ইসরায়েলের প্রকৃতি ও উদ্যান কর্তৃপক্ষ এবং পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের আইনি উপদেষ্টারা এই প্রকল্পের বিরোধিতা করেছেন। বিষয়টি নিয়ে জরুরি বৈঠকও ডাকা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
নেগেভ মরুভূমিতে অবস্থিত কেতজিওত কারাগার ইসরায়েলের অন্যতম বৃহৎ বন্দিশালা। সেখানে গাজা ও পশ্চিম তীর থেকে আটক ফিলিস্তিনিদের রাখা হয়।
ফিলিস্তিনি কারাবন্দী বিষয়ক সংস্থাগুলোর হিসাব অনুযায়ী ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজা যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইসরায়েলি কারাগারে ফিলিস্তিনি বন্দীর সংখ্যা ৮৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৯ হাজার ৬০০ অতিক্রম করেছে। একই সাথে বন্দীদের ওপর কম্বল ও খাবার না দেওয়া এবং লোহার পাতে ঘুমাতে বাধ্য করার মতো কঠোর নির্যাতন চালানো হচ্ছে বলে জানা গেছে।
সূত্র: মিডল ইস্ট মনিটর
মন্তব্য করুন