
আবু কাতাদাহ হারিস ইবনে রিবয়ি (রা.) থেকে বর্ণিত একটি সহিহ হাদিসে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) ঈমান ও আল্লাহর পথে আমলের মর্যাদা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য প্রদান করেন।
তিনি বলেন, সর্বোত্তম আমল হলো আল্লাহর প্রতি ঈমান আনা এবং আল্লাহর পথে (ফি সাবিলিল্লাহ) সংগ্রাম করা।
এ কথা শোনার পর এক সাহাবি প্রশ্ন করেন— “ইয়া রাসুলাল্লাহ! যদি আমি আল্লাহর পথে নিহত হই, তাহলে কি আমার সব গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে?”
উত্তরে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, “হ্যাঁ, যদি তুমি সওয়াবের নিয়তে, ধৈর্যের সঙ্গে এবং পিছপা না হয়ে আল্লাহর পথে সংগ্রাম করো, তাহলে তোমার গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে।”
তবে তিনি আরও বলেন, “কিন্তু মানুষের ঋণ ক্ষমা করা হবে না।” এ কথাটি জিবরিল (আ.) এর মাধ্যমে রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জানানো হয়েছিল। (সহিহ মুসলিম: ৪৮৮০, মুসনাদে আহমাদ: ২২৫৮৫)
হাদিস থেকে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা ও বিধান ১. ঈমান ও সৎ আমল সর্বোত্তম ইসলামের দৃষ্টিতে ঈমান আনা এবং আল্লাহর নির্দেশিত পথে চলা সর্বোচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন আমল।
২. ইখলাস ও আন্তরিকতার গুরুত্ব শুধু বাহ্যিক কাজ নয়, বরং নিয়তের বিশুদ্ধতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কাজ করাই মূল বিষয়।
৩. শাহাদাতের মহান মর্যাদা আল্লাহর পথে জীবন উৎসর্গ করলে অনেক গুনাহ মাফ হয়ে যায়—এটি আল্লাহর অসীম দয়ার প্রকাশ।
৪. ধৈর্য ও দৃঢ়তা অপরিহার্য বড় কোনো আমল বা ত্যাগ ধৈর্য, দৃঢ়তা এবং আল্লাহর ওপর ভরসা ছাড়া পূর্ণতা পায় না।
৫. বান্দার হকের গুরুত্ব (ঋণ) শাহাদাতের মতো উচ্চ মর্যাদাও মানুষের হক বা ঋণের দায় থেকে মুক্তি দেয় না। তাই ঋণ পরিশোধে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকা জরুরি।
এই হাদিস আমাদের শিক্ষা দেয় যে, ঈমান, ইখলাস, ধৈর্য এবং আল্লাহর ওপর ভরসা—এসবই নাজাতের মূল ভিত্তি। পাশাপাশি বান্দার হক, বিশেষ করে ঋণ পরিশোধের বিষয়ে কঠোর সতর্কতা অবলম্বন করা একজন মুমিনের দায়িত্ব।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সঠিকভাবে বুঝে আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।
মন্তব্য করুন
২৩ জুন ২০২৬, ১০:৩১ এএম
২৩ জুন ২০২৬, ০৭:৪০ পিএম
২৩ জুন ২০২৬, ০৭:৫১ পিএম