
কয়েক দিন স্থিতিশীল থাকার পর টানা বৃষ্টির অজুহাতে যশোরের বাজারে আবারও লাগামহীন হয়ে উঠেছে সবজি ও কাঁচামরিচের দাম। সরবরাহ সংকটের দোহাই দিয়ে বিক্রেতারা রাতারাতি দাম বাড়িয়ে দেওয়ায় চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন সাধারণ ক্রেতারা। কাঁচাবাজারের পাশাপাশি মুরগি, মাছ ও মুদি বাজারেও চড়া দাম অব্যাহত রয়েছে। যশোরের নিউমার্কেট এলাকার ক্রেতা সাইফুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে বাড়তি দামের চাপ সহ্য করছি। দু-চারদিনের জন্য একটু স্বস্তি আসে, তারপর আবারও সেই পুরনো অবস্থা। বাজার পরিস্থিতি কখন যে কী হয় বোঝা মুশকিল।” কাজীপাড়া এলাকার খন্দকার সাহিদুর রহমান ও টিএন্ডটি এলাকার আনোয়ার হোসেনের মতো সাধারণ ক্রেতাদের কণ্ঠেও একই সুর। তারা জানান, সব পণ্যের দামই চড়া, তার ওপর নতুন করে সবজি ও মরিচের দাম বাড়ায় সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠছে। ব্যবসায়ীরা জানান, টানা বৃষ্টির কারণে বাজারে সবজির সরবরাহ কমে গেছে। ফলে দুই দিন আগের তুলনায় প্রায় প্রতিটি সবজির দাম কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। সবচেয়ে বেশি বেড়েছে বেগুন ও টমেটোর দাম। দুই দিন আগে ৬০-৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও বর্তমানে তা এক লাফে বেড়ে ১০০-১২০ টাকায় ঠেকেছে। ৬০-৮০ টাকার মরিচ এখন বিক্রি হচ্ছে ৮০-১৪০ টাকা কেজিতে। দুই দিন আগের ১২০-১৪০ টাকার টমেটো এখন বিক্রি হচ্ছে রেকর্ড ২০০ টাকা কেজিতে। অন্যান্য সবজির বাজার দরের মধ্যে রয়েছে কচুরলতি, কাঁকরোল, বরবটি, ঝিঙে, করলা, মুলা ৬০ টাকা। ওল ৮০ টাকা। উচ্ছে, বিটকপি ৮০-১০০ টাকা। কচুরমুখী, লাউ, শসা, বাঁধাকপি ৫০-৬০ টাকা। পেঁপে: ৪০-৫০ টাকা। মিষ্টি কুমড়া, চিচিঙ্গা, কাঁচকলা, ধুন্দল ৪০ টাকা। পটল, চালকুমড়া, ঢেঁড়স ৩০ টাকা। গাজর ১৩০ টাকা। আলু ২৫ টাকা। ব্যবসায়ীদের দাবি, বৃষ্টি কমলে সরবরাহ স্বাভাবিক হবে এবং দাম আবার আগের অবস্থায় ফিরে আসবে। মাংসের বাজারে ব্রয়লার মুরগি ২০০ টাকা, সোনালী মুরগি ৩২০ টাকা, লেয়ার মুরগি ৩৬০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৬৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া গরুর মাংস ৭৫০-৮০০ টাকা এবং খাসির মাংস ১,২০০ টাকা কেজিতে স্থির রয়েছে। মাছের বাজারে মাঝারি ও বড় সাইজের ইলিশ সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে। ইলিশ ২০০-৩০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ৮০০-১,২০০ টাকা, ৫০০-৭০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ১,৬০০-২,০০০ টাকা এবং ১ কেজি সাইজের ইলিশ ৩,৫০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। অন্যান্য মাছের মধ্যে পাঙ্গাশ ১২০-২০০ টাকা, তেলাপিয়া ১২০-১৮০ টাকা, সিলভার কার্প ১৩০-২০০ টাকা, রুই ২২০-৩৫০ টাকা, কাতলা ২৮০-৪০০ টাকা, চিংড়ি ৬০০-১,৪০০ টাকা কেজি। ডিমের বাজারে প্রতি হালি ডিম বিক্রি হচ্ছে ৪২-৪৪ টাকায়। এছাড়া সোনালী মুরগির ডিম ৫০ টাকা, দেশি মুরগির ডিম ৬০ টাকা, হাঁসের ডিম ৬৮-৭০ টাকা এবং কোয়েল পাখির ডিম ১২ টাকা হালি দরে বিক্রি হচ্ছে। চালের বাজারে প্রতি কেজি স্বর্ণা চাল ৪৮-৫২ টাকা, মিনিকেট ৬৫-৭৮ টাকা, কাজললতা ৬০ টাকা, আঠাশ ৫৮-৬০ টাকা, বাসমতি ৮০-৮৫ টাকা এবং নাজিরশাইল ৮২-৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় মুদি পণ্য: চিনি: ১০৫-১৪০ টাকা (কেজি), লবণ: ৪০ টাকা (কেজি), আটা: খোলা ৪০-৪৫ টাকা, প্যাকেট ৫০-৫৫ টাকা। সয়াবিন তেল: খোলা ২০৮-২১০ টাকা (কেজি), বোতলজাত ২০০ টাকা (লিটার)। ডাল: মসুর ডাল ৯০-১৬০ টাকা, মুগ ডাল ১৩০-১৬০ টাকা, ছোলার ডাল ১০০ টাকা, বুট ডাল ৬০ টাকা। মসলার বাজারে এলাচের দাম আকাশছোঁয়া। প্রতি কেজি এলাচ বিক্রি হচ্ছে ৪,৮০০ থেকে ৬,০০০ টাকায়। এছাড়া জিরা ৭০০-১,০০০ টাকা, দারুচিনি ৪৫০-৫৮০ টাকা, গোলমরিচ ১,১০০-১,৪০০ টাকা এবং লবঙ্গ ১,৩০০-১,৬০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। পেঁয়াজ ৩৫-৪০ টাকা, রসুন ৫০-১৬০ টাকা এবং আদা ১৬০-২৬০ টাকা কেজিতে বিক্রি হতে দেখা গেছে।
মন্তব্য করুন