
বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস ২০২৬ উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেছেন, দেশের ভবিষ্যৎ ও উন্নয়নের প্রধান চালিকাশক্তি হলো তরুণ প্রজন্ম। তাদের মৌলিক চাহিদা পূরণ, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উন্নয়নের সুযোগ নিশ্চিত করতে পারলেই বাংলাদেশ টেকসই উন্নয়নের পথে আরও এগিয়ে যাবে।
শনিবার (১১ জুলাই) বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে রাষ্ট্রপতি বলেন, বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও যথাযোগ্য মর্যাদায় বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস ২০২৬ পালিত হচ্ছে, যা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম জনবহুল দেশ এবং দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় এক-তৃতীয়াংশই তরুণ। এই বিশাল জনগোষ্ঠীকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করা গেলে নতুন প্রজন্মের স্বপ্ন পূরণের পাশাপাশি একটি সমৃদ্ধ ও উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
রাষ্ট্রপতি বলেন, এবারের প্রতিপাদ্য ‘তারুণ্যের আশা-আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করি, আজকের প্রত্যয়ে সুন্দর আগামী গড়ি’ বর্তমান সময়ের বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং অত্যন্ত সময়োপযোগী।
রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘বর্তমান সরকার দেশের যুব ও তরুণ প্রজন্মকে সুশিক্ষিত, দক্ষ, স্বাবলম্বী ও নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে অঙ্গীকারবদ্ধ। এ লক্ষ্যে সরকার দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিক, কর্মমুখী ও উৎপাদনমুখী করতে নানা পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন শুরু করেছে।’
তিনি বলেন, ‘যুবসমাজের সৃজনশীলতা ও নেতৃত্বের বিকাশ এবং ডিজিটাল প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনে দক্ষ করে গড়ে তুলতে কারিগরি ও কর্মমুখী শিক্ষা ও প্রশিক্ষণে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে মাদক, বাল্যবিবাহ, সহিংসতাসহ নানান সামাজিক অবক্ষয় রোধে ব্যাপক সচেতনতা তৈরি, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সম্প্রসারণ এবং আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করা হচ্ছে।’
রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আমার বিশ্বাস, এ সকল উদ্যোগ নতুন প্রজন্মের বিকাশ ও জীবনমান উন্নয়নে সহায়ক হবে। দেশের সামাজিক স্থিতিশীলতা এবং টেকসই উন্নয়নের অন্যতম নিয়ামক হিসেবে ভূমিকা রাখবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘নাগরিক সুস্বাস্থ্য ও পরিকল্পিত পরিবার একটি সুস্থ ও কর্মক্ষম জাতি এবং টেকসই আর্থসামাজিক উন্নয়নের পূর্বশর্ত। এই প্রেক্ষাপটে সরকার দেশের স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়নেও ব্যাপকভিত্তিক কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। তরুণ প্রজন্মকে প্রকৃত মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা সেবা, মা-শিশু স্বাস্থ্য, প্রজনন স্বাস্থ্য ও বয়ঃসন্ধিকালীন স্বাস্থ্য সেবাকে আরো কার্যকর ও সর্বজনীন করে তুলতে সংশ্লিষ্ট সকলকে যথাযথ ভূমিকা রাখতে হবে।’
তারুণ্যের উন্নয়নে সরকারের পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বেসরকারি সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে এগিয়ে আসার উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘দেশের বিদ্যমান স্বাস্থ্যসেবা অবকাঠামোসমূহের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত এবং মানসম্মত পরিবার পরিকল্পনা, মা-শিশু স্বাস্থ্য ও কৈশোরকালীন স্বাস্থ্যসেবা প্রদানে সংশ্লিষ্ট সকলের আন্তরিক প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলে প্রত্যাশা করি।’
‘বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস-২০২৬’ উপলক্ষ্যে গৃহীত সকল কর্মসূচির সফলতা কামনা করেন রাষ্ট্রপতি।
সূত্র: বাসস
মন্তব্য করুন