
সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (সুবিপ্রবি) উপাচার্য (ভিসি) পরিবর্তনের দাবি জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে ‘সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস জেলা সদরে বাস্তবায়ন আন্দোলন’।
বৃহস্পতিবার বিকেলে সংগঠনটির পক্ষ থেকে এ স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
স্মারকলিপিতে দাবি করা হয়, অনির্বাচিত সরকারের আমলে নিয়োগপ্রাপ্ত বর্তমান উপাচার্য একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর মনোনীত ব্যক্তি। তার দায়িত্বকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকবল নিয়োগের প্রায় ৮০ শতাংশই ওই গোষ্ঠীর অনুসারী এবং সুনামগঞ্জ ও সিলেট বিভাগের বাইরের ব্যক্তিদের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।
এছাড়া উপাচার্যের প্রশাসনিক দক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়। স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, একই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি একাধিকবার প্রকাশ এবং বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন শর্ত সংযোজন তার প্রশাসনিক অদক্ষতার প্রমাণ। আরও বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয় সুনামগঞ্জ সদর ও শান্তিগঞ্জ—উভয় স্থানে প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত থাকলেও তিনি এককভাবে শুধুমাত্র শান্তিগঞ্জে স্থাপনের লক্ষ্যে একনেকে ফাইল পাঠিয়েছেন। এ বিষয়ে তিনি জেলার পাঁচজন সংসদ সদস্যের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছেন বলেও অভিযোগ করা হয়।
স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, নিয়োগ বাণিজ্যের সুবিধার্থে উপাচার্য তার পছন্দের ও অনুগত ব্যক্তিদের সিন্ডিকেট সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেছেন। সেখানে সুনামগঞ্জের সর্বজন শ্রদ্ধেয় শিক্ষাবিদদের পাশাপাশি সুনামগঞ্জ সদর আসনের সংসদ সদস্যকেও সদস্য করা হয়নি বলে দাবি করা হয়।
এ অবস্থায় দেশের অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পরিবর্তনে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
স্মারকলিপিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাসের স্থান নির্বাচন নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। এতে বলা হয়, প্রস্তাবিত স্থানটি জেলার অন্যতম বৃহৎ হাওর এলাকার মধ্যে হওয়ায় সেখানে স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণ করা হলে প্রকৃতি, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়, জেলার গুরুত্বপূর্ণ হাওর ‘দেখার হাওর’ ধান ও মাছ উৎপাদনের একটি বড় উৎস। তাই হাওরের স্বাভাবিক পরিবেশ ও প্রতিবেশ রক্ষা করে সুনামগঞ্জ জেলা সদরে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস স্থাপনের বিষয়ে সরকারের কাছে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
স্মারকলিপি প্রদানকালে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের যুগ্ম আহ্বায়ক ও জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট রবিউল লেইছ রোকেস, সদস্য সচিব মোনাজির হোসেন সুজন, বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট মাসুক আলম, জেলা সিপিবির সাবেক সভাপতি চিত্ত রঞ্জন তালুকদার, সাবেক সিভিল সার্জন ডা. মনোয়ার আলী, শিক্ষাবিদ যোন্বেশ্বর দাস, অ্যাডভোকেট এনাম আহমদ, যুগ্ম সদস্য সচিব বদরুল কাদির শিহাব ও রাজু আহমেদ, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি তারেক মিয়া, সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল ইসলাম, ছাত্রদল নেতা শাহ্ রাহুল, মামুনুর রশিদ শান্ত এবং সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্যের যুগ্ম আহ্বায়ক তুর্য দাসসহ আরও অনেকে।
মন্তব্য করুন